সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ কাসেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে দুদক। দলে রয়েছেন উপপরিচালক আজিজুল হক, সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী মুসা জেবিন এবং সহকারী পরিচালক আল-আমিন। চলতি বছরের ২ জুন এ বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি জারি করে দুদক।
অনুসন্ধান দলের প্রধান আজিজুল হক জানান, এম এ কাসেমের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে তা শেষ করা হবে।
এর মধ্যে ৩ সেপ্টেম্বর নিজামুল আলম নামে একজন নতুন করে অভিযোগ জমা দিয়েছেন দুদকে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কেনাবেচার নামে এম এ কাসেম ৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা, সিটিং অ্যালাউন্স বাবদ অর্থ আত্মসাৎ এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি সিন্ডিকেট গড়ে রূপগঞ্জে ২৫০ বিঘা নিচু জমি কিনে প্রায় ৪২০ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। ২০১৪ সালে ৮০ কোটি টাকার জমি ৫০০ কোটিতে কেনা হয় এবং সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। জমি ভরাটের নামে আরও ২০-২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির অর্থ থেকেও নয়জন ট্রাস্টি সদস্যের জন্য আটটি রেঞ্জ রোভার ও একটি মার্সিডিজ গাড়ি কেনা হয়, যার পেছনে খরচ হয়েছে ২৫ কোটির বেশি টাকা। এসব গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বহন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন অমান্য করে অতিরিক্ত কমিটি গঠন করে সিটিং অ্যালাউন্স নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ নিজেদের মালিকানাধীন সাউথইস্ট ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে জমা রাখা হয়।
কাসেমের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।