স্টাফ রিপোর্টার:
সারাদেশে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, এবার দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা ফ্রন্ট, কল্যাণ ট্রাস্ট ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটিসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো সতর্কতা বা ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা গতবারের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেড়েছে। গত বছর ৩২ হাজার ৩৫১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার সরকারি ছুটি তিন দিন করা হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে মোট পাঁচ দিনের ছুটি হবে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেনি। তবে পুরো উৎসবজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে এবং কোনো হুমকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নজরদারি জোরদারে একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হবে, যা এর আগে জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) নির্বাচনের সময় ব্যবহার করেছিল। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য দ্রুত জানানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এ অ্যাপ সহায়ক হবে। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তর, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল চালু থাকবে।
পূজামণ্ডপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপ আয়োজকদের সার্বক্ষণিক জেনারেটর প্রস্তুত রাখা এবং বিকল্প হিসেবে রিচার্জেবল লাইট রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট, মানিকগঞ্জ ও দিনাজপুরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঘটনাগুলো এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন।
চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ নিয়মিত চাঁদাবাজ, সশস্ত্র অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা হালনাগাদ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধী হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। মাটিকাটা ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় রাতে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর পুলিশের হস্তক্ষেপের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
মিরপুরে হকার ও পুলিশের সংঘর্ষ এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ঘটনায় সরকারি তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।