কানাডার অন্টারিওভিত্তিক ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিচালিত ‘হার্টবিট ১০৪ মেডিভ্যাক’ বিমান আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের উদ্দেশে যাত্রা করা বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর টানা ৬৬ ঘণ্টা ধরে ব্যাপক অনুসন্ধান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড।
শেষ পর্যন্ত ন্যান্টাকেট উপকূল থেকে প্রায় ২০ মাইল দক্ষিণে সমুদ্রপৃষ্ঠে বিমানের ধ্বংসাবশেষের একটি বড় অংশের সন্ধান পাওয়া যায়। আরোহীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা না থাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান স্থগিত করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) বিমানটি বারমুডার এলএফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। যাত্রাপথে মাঝআকাশে বিমানটির পাইলট নিয়ন্ত্রণকক্ষকে যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক সমস্যার কথা জানান।
এর কিছুক্ষণ পর রাডারে বিমানটির উচ্চতায় আকস্মিক ও নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যায়। বিমানটি দ্রুত সমুদ্রের দিকে নিচে নামতে থাকে। একপর্যায়ে বিমানটির সঙ্গে বেতার যোগাযোগ এবং অবস্থান শনাক্তের সব ধরনের সংকেত বন্ধ হয়ে যায়।
বিধ্বস্ত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের চারজন কর্মী, চিকিৎসার জন্য যাত্রা করা একজন ক্রনিক রোগী এবং তাঁর একজন স্বজন ছিলেন। দুর্ঘটনায় ছয়জনই নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন কানাডার নাগরিক এবং দুজন বারমুডার নাগরিক।
নিহত কানাডিয়ানরা হলেন—প্রধান পাইলট ফিলিপ গ্রেগরি চিল্ডারহোস, সহকারী কো-পাইলট থমাস হেনরি ফারকুহার, ফ্লাইট নার্স সারা জেন প্যাটন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস চিকিৎসাবিষয়ক কর্মী জোলিন বেথ ওয়্যার।
নিহত বারমুডার নাগরিক দুজন হলেন চিকিৎসাধীন ৬৬ বছর বয়সী মেরিলিন লাভোন বিন এবং তাঁর ৪১ বছর বয়সী ছেলে সার্জিও ওয়েন লটিমোর।
টানা তিন দিন অনুসন্ধানের পর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে নিখোঁজ বিমানটির সন্ধান মিললেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।