শিরোনাম
ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৮ দিল্লিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক সম্মেলন দুর্গাপূজায় ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপ, নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএনসিসির নতুন দুটি ওয়ার্ড গঠনের উদ্যোগ ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল প্রায় ১২ টাকা, নতুন দর ১০৮.৭৮ টাকা চীনের বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির মাগুরায় ৫০৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা এজাহরা আল মানসুরি অক্টোবর-নভেম্বরে এলএনজি ঘাটতির আশঙ্কা নেই: পেট্রোবাংলা শাহজালাল বিমানবন্দরে ৮১.৫০ লিটার বিদেশি মদ আটক সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতায় সন্তুষ্ট আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টির প্রবণতা বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন

আফ্রিকার রাজনৈতিক জাগরণে নতুন নেতৃত্ব: ইব্রাহিম ত্রাউরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৯৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫

আধুনিক আফ্রিকান রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন বুরকিনা ফাসোর তরুণ নেতা ইব্রাহিম ত্রাউরে। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে দেশের শাসনভার গ্রহণ করে তিনি হয়ে উঠেছেন আফ্রিকার নতুন প্রজন্মের প্রতীক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দেশপ্রেম, বিপ্লবী বক্তব্য এবং দৃঢ় নেতৃত্ব তাঁকে রূপ দিয়েছে কোটি মানুষের ভালোবাসার নেতায়। অনেকেই তাঁকে দেখছেন আফ্রিকান রাজনৈতিক নবজাগরণের এক প্রধান মুখ হিসেবে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বুরকিনা ফাসোর তৎকালীন সামরিক শাসক পল-হেনরি সান্দাওগো দামিবাকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন ক্যাপ্টেন ত্রাউরে। দামিবার শাসনামলে জিহাদি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যর্থতা ও পশ্চিমা—বিশেষ করে ফ্রান্স—ঘেঁষা নীতির কারণে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধে। এই অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতেই সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় আসেন ত্রাউরে। ক্ষমতায় এসেই তিনি জানিয়ে দেন, আফ্রিকা আর আগের মতো থাকবে না।

ত্রাউরে নিজেকে আফ্রিকান বিপ্লবী নেতা টমাস সাংকারার আদর্শে অনুপ্রাণিত বলে দাবি করেন। সাংকারা ১৯৮০-এর দশকে বুরকিনা ফাসো শাসন করেছিলেন এবং হয়ে উঠেছিলেন আফ্রিকান সমাজতন্ত্র ও স্বনির্ভরতার প্রতীক। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে ত্রাউরে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্থানীয় মিলিশিয়া সংগঠন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে তিনি জিহাদি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক নতুন কৌশলের সূচনা করেন।

তাঁর নেতৃত্বে বুরকিনা ফাসো ধীরে ধীরে পশ্চিমা সামরিক প্রভাব থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ত্রাউরে ফ্রান্সকে বুরকিনা ফাসো থেকে তাদের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নিতে বলেন। পাশাপাশি বাতিল করে দেন ফ্রান্সের সঙ্গে আগের সরকারগুলো করা সামরিক চুক্তিগুলো, যেগুলোকে তিনি “পুতুল শাসকদের চুক্তি” হিসেবে অভিহিত করেন।

এই সিদ্ধান্ত সাহেল অঞ্চলে এক বড় বার্তা দেয়। মালি ও নাইজারের সামরিক শাসকদের সঙ্গে মিলে ত্রাউরে একটি ফ্রান্সবিরোধী আঞ্চলিক ঐক্য গড়ে তোলেন। এ জোট আফ্রিকার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন গতিপথের ইঙ্গিত দেয়। পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও আফ্রিকার এক বড় জনগোষ্ঠী, বিশেষত তরুণ সমাজ এই পরিবর্তনে আশাবাদ খুঁজে পাচ্ছে।

ত্রাউরের উত্থান যেন আফ্রিকার একটি পুরোনো সংগ্রামের পুনরুত্থান—একটি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও আত্মনির্ভরশীল আফ্রিকার স্বপ্নের সঙ্গে জড়িত। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর মতো নেতৃত্ব শুধু একটি দেশের জন্য নয়, পুরো মহাদেশের জন্যই নতুন পথ দেখাচ্ছে। আফ্রিকানরা এখন নিজেদের সম্পদের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তায় নিজেদের উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে। আর এই চাওয়ার প্রতীক হয়ে উঠেছেন ইব্রাহিম ত্রাউরে।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ