দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ার সুয়েইদা অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও বিমান হামলার পর ইসরায়েল ও সিরিয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক।
শনিবার ভোরে এক্স (পূর্বের টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে ব্যারাক জানান, এই যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এবং তুরস্ক, জর্ডানসহ সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো এটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
বেশ কয়েক দিন ধরে সুয়েইদায় সংঘটিত ড্রুজ, বেদুইন ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সহিংসতা, এবং ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রেক্ষিতে এই সমঝোতা অস্থায়ী হলেও গুরুত্বপূর্ণ শান্তির বার্তা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দূত ব্যারাক বলেন: “আমরা ড্রুজ, বেদুইন ও সুন্নি সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই—আপনারা অস্ত্র নামিয়ে রাখুন এবং একত্রে শান্তিপূর্ণ, ঐক্যবদ্ধ সিরিয়া গঠনে এগিয়ে আসুন।”
গত বুধবার ইসরায়েল দামেস্কে বিমান হামলা চালায়। লক্ষ্য ছিল সরকারি স্থাপনা।
ইসরায়েলের দাবি, তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে ড্রুজদের সুরক্ষার স্বার্থে, যারা সিরিয়ায় আরব ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচিত। এই হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনে আঘাত হানার একটি ভিডিও সরাসরি সম্প্রচারে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়ায়।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা তার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, সরকার সুয়েইদা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে।সরকার ড্রুজ সম্প্রদায়ের সঙ্গে পৃথক একটি যুদ্ধবিরতিতেও সম্মত হয়েছে।তবে একই সঙ্গে শারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন: “ইসরায়েল আমাদের জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চায় এবং সিরিয়াকে একটি অস্থির যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে।”
বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস ঘটে এবং তার ফলে সরকারপন্থি বাহিনী ও ড্রুজদের মধ্যে বহুবার সংঘর্ষ হয়েছে। এ যুদ্ধবিরতি যদি দীর্ঘমেয়াদি সংলাপ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা করে, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।