রাজধানীজুড়ে শুক্রবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান সড়কগুলোতে টহল জোরদারের পাশাপাশি যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়।
দুপুরে খিলক্ষেত বাসস্টেশন এলাকায় সেনা সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় দেখা যায়। যাত্রী ওঠানামার সময় বিভিন্ন বাসে উঠে তল্লাশি করা হয়, পাশাপাশি মোটরসাইকেলও চেক করা হয়। বেলা আড়াইটার দিকে কাকরাইল থেকে মগবাজারমুখী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এভিনিউর হলি ফ্যামিলি মোড়ে সেনাবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান নেয় এবং সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি চালায়।
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের হামলা ও ভারতে মুসলিমদের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে শুক্রবার রাজধানীতে বিভিন্ন ইসলামি দল ও সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা ছিল। পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতেও কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভের ডাক দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে’ বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ মঞ্চ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই দাবিতে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ও ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ’ বিক্ষোভ মিছিল করে এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দেয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যেখানে জলকামান ও এপিসি মোতায়েন ছিল। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশপাশেও নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান জোরদার করা হয়। পাশাপাশি, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।