বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর কয়েক দফায় তাকে ফেরত চাইছে বাংলাদেশ। এই প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
শনিবার হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে এক প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “শেখ হাসিনা একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভারতে এসেছিলেন। তার সঙ্গে যা ঘটেছে, সেই পেছনেও সেই একই পরিস্থিতি রয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি তার নিজের।”
শেখ হাসিনা কতদিন ভারতে থাকতে পারবেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণই তার ব্যক্তিগত।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, তারা আগের নির্বাচনী পদ্ধতিতে অসন্তুষ্ট। তাই তাদের প্রথম দায়িত্ব স্বচ্ছ নির্বাচন করা।”
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত সবসময় বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করে। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণই সিদ্ধান্ত নেয়। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের পর দুই দেশের সম্পর্ক ভারসাম্যমূলক ও উন্নত হবে।”
প্রসঙ্গত, গত বছরের আগস্টে ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের পতন ঘটে। সহিংসতায় বহু প্রাণহানি ও হাজারো মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার দুই দফায় দিল্লির কাছে তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ভারত এখনো কোনো উত্তর দেয়নি।