সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
শনিবার (২৮ জুন) অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মো. কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়, রিট পিটিশন নং-৩২১৪/২০১৮ অনুসারে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে রিটকারী ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছে।
অবশিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীতির বিষয়টি এখন সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম এ বিষয়ে বলেন, “সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এটি দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল। তবে আমাদের দাবি ছিল সকল প্রধান শিক্ষকের দশম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন।”
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত ঘোষণা দেয়। এরপর ১১তম (প্রশিক্ষিত) ও ১২তম (অপ্রশিক্ষিত) গ্রেড নির্ধারণ করা হয়, যা বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে ৪৫ জন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন এবং তা আপিলেও বহাল থাকে।
এদিকে, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বেতনস্কেল উন্নীতির প্রক্রিয়া ঘিরে কিছু ব্যক্তি চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। শিক্ষক সমাজকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে এবং যেকোনো আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. কামরুল হাসান জানান, “সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কারও সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়ালে বা প্রতারণার শিকার হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”