মধ্যপ্রাচ্যে ফের দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে। গত ২৪ ঘণ্টার পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই পক্ষই বিপুল প্রাণহানি ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এ অভিযানে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানা এবং শীর্ষ সামরিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়।
হামলায় প্রাণ হারান ইরানের ছয়জন পরমাণু বিজ্ঞানী। নিহত হন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)-এর সর্বোচ্চ পদাধিকারী মেজর জেনারেল হোসেন সালামি, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি শামখানি। সূত্র মতে, এ হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭৮ জনে এবং আহত হয়েছেন ৩২০ জনের বেশি।
এরই প্রতিশোধ হিসেবে শনিবার (১৪ জুন) ভোরে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালায় ইরান। হামলায় ইসরায়েলের বহু চর্চিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আয়রন ডোম এবং ডেভিড’স স্লিং কার্যত ব্যর্থ হয়।
তেল আবিবের সেনা সদর দফতর এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পরপর দুটি ধাপে হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণে রাজধানীর একাধিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে। শহরের আকাশে সাইরেন বেজে উঠলে মানুষ আতঙ্কে রেসকিউ সেন্টারের দিকে ছুটে যায়। ইসরায়েলি প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় একজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন।
হামলার আওতা থেকে বাদ যায়নি ইসরায়েল অধিকৃত জেরুজালেমও। সেখানেও হামলা চালানো হয়, তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সময় ইরানের রাজধানী তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০ ফাইটার জেট নিয়ে ইসরায়েলের আক্রমণ এবং পাল্টা ইরানি মিসাইল হামলা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ইঙ্গিত বহন করছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এ উত্তেজনার জেরে কূটনৈতিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এক বিবৃতিতে বলেন, “ইসরায়েল যে অপরাধ করেছে, তার কঠিন মূল্য দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, এ বিবৃতি হামলার পরপরই প্রচারিত হয় এবং সেটিই ছিল এই পাল্টা আক্রমণের পূর্বাভাস।
বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এই সংঘাতের মাত্রা ও পরিণতি নিয়ে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এই অবস্থাকে “চরম উদ্বেগজনক” বলে আখ্যায়িত করছে এবং উভয় পক্ষকে দ্রুত সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।