নারায়ণগঞ্জে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে ঘেরাও করে জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনকারী ছাত্ররা বিক্ষোভ করেছেন। তারা জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা মূল আসামির গ্রেফতারসহ সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বিকেএমইএ ভবনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এলে আন্দোলনকারী ছাত্ররা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ঘেরাও করে স্লোগান দেন। পরে তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সিদ্ধিরগঞ্জ ও আড়াইহাজার থানা থেকে উদ্ধার হওয়া ১৪০টি অস্ত্রের মধ্যে এখনো ৪০টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এছাড়া রাইফেল ক্লাব থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়নি, যা সুষ্ঠু নির্বাচনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে তারা দাবি করেন।
তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, ওসমান পরিবার ও তাদের সহযোগীরা এখনো নারায়ণগঞ্জে সক্রিয় রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ওসমান পরিবারের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যের অর্থ ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা থানায় ও আদালতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের তদবির, হত্যা মামলা নিয়ে বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে গ্যাং কালচার প্রতিরোধ, মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, বিদেশি ঘাতকদের শনাক্ত ও আটক, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ চান।
তারা জানান, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় অভিযুক্ত মূল আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করতে হবে। তিনি ভারতে পালিয়ে গেলে সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ারও দাবি জানান তারা।
জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। সরকার ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি শরিফ ওসমান হাদির সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।
তিনি জানান, গুলির ঘটনায় মূল আসামি গ্রেফতার না হলেও তার ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজন সহযোগীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলাকায় থাকা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না তা দেখার প্রয়োজন নেই, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। ব্যর্থ হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্র শক্তির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মাহফুজ খান, নিউ জেনারেশন বাংলাদেশ (এনজিবি)-এর আহ্বায়ক মেহেরাব হোসাইনসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা ও মহানগরের একাধিক নেতা।