পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার মোকওয়া শহরে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও পাঁচ শতাধিক মানুষ। ফলে মৃতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
সোমবার (২ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
নাইজার প্রদেশের মোকওয়া শহরের স্থানীয় কর্মকর্তা মুসা কিমবোকু জানান, গত বৃহস্পতিবার টানা ভারী বর্ষণের কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। শত শত উদ্ধারকর্মী তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানে অংশ নিলেও, বর্তমানে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা না থাকায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্যমতে, এটি গত ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। শহরের টিফিন মাজা ও আনগুয়ান হাউসাওয়া এলাকা সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
বন্যার প্রভাবে ব্যাপক মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। মোকওয়ার জেলা প্রধান মুহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, রোগপ্রবণতা রোধে দ্রুত মৃতদেহ দাফনের কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আদামু ইউসুফ বলেন, “আমি অসহায় হয়ে দেখলাম, কীভাবে আমার স্ত্রী আর সদ্যজাত সন্তান পানিতে ভেসে যাচ্ছে। আমি সাঁতার জানতাম বলে বেঁচে গিয়েছি।”
আরেক বাসিন্দা সালিউ সুলাইমান জানান, তিনি নিজের বাড়িঘর ও প্রায় ১,৫০০ ডলার নগদ অর্থ হারিয়েছেন। আগের দিন খামারের ফসল বিক্রি করে এই অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, পাশের একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এই বিধ্বংসী বন্যা হয়েছে। তবে প্রশাসন এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। নাইজার নদীর প্রবল স্রোতে কিছু মরদেহ ভেসে গিয়ে ঘণ্টাখানেক দূরের রাব্বা শহরেও পৌঁছে গেছে বলে জানা গেছে।
ডেপুটি ভাইস-চেয়ারম্যান কিমবোকু জানান, “কোনো মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে দাফনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” অনেকে বলেন, কিছু মরদেহ কখনোই উদ্ধার সম্ভব নয়।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (NEMA) জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। সংস্থাটির এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, বন্যায় রাস্তা ও সেতু ভেঙে পড়ায় যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
নাইজেরিয়ান রেড ক্রস এর আগে জানিয়েছিল, বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে এবং স্মরণকালের ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
নাইজেরিয়ায় সাধারণত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষাকাল চলে এবং এ সময়েই বন্যার ঝুঁকি থাকে। ২০২৪ সালে ও ২০২২ সালেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছিল। ২০২২ সালের বন্যায় ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত ও প্রায় ১৩ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।