চাঁদপুরে চাবিপ্রবি’র মিটিংয়ে ভিসির সামনেই প্রভাষক বায়েজিদ আহম্মেদ রনি’কে বহিষ্কৃত সেই শিক্ষক নাজিমউদ্দিনের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন।
গতকাল রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মিটিং চলাকালীন সময়ে চাবিপ্রবি’র ভিসি প্রফেসর ড. পেয়ার আহমেদ এর সামনেই প্রভাষক বায়েজিদ আহম্মেদ রনি’কে বহিষ্কৃত সেই শিক্ষক নাজিমউদ্দিন বিভিন্ন ভাবে প্রাণ নাশের হুমকি দেন।
পরে প্রভাষক বায়েজিদ আহম্মেদ রনি তার মান সম্মানের দিকে বিবেচনা করে এবং তার জীবনের নিরাপত্তার জন্য চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন।যার চাঁদপুর সদর মডেল থানার জিডি নাম্বার- ১৮/২২।
এসময় চাবিপ্রবি’র প্রভাষক বায়েজিদ আহম্মেদ রনি জিডিতে উল্লেখ করেন, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী মোঃ বাইজীদ আহম্মেদ রনি (২৭), পিতা: মোঃ বাদশা মিয়া, মাতা রাশিদা আক্তার, জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ৮২৫২৭৯৫১৫১, ঠিকানা (স্থায়ী)- চেয়ারম্যানঘাট, গ্রাম ষোলঘর, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড-ওয়ার্ড নং-১০, যানা-চাঁদপুর সদর, জেলা চাঁদপুর। বিবাদীঃ-১। নাজিম উদ্দিন (২৯), পিতা-আবু নাইম, সাং-সাহের নগর, পোঃ-নাছিরাবাদ, থানা-নবীনগর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়ীয়া।
এসময় তিনি ডায়রিতে আরো বলেন, আমি মোঃ বায়েজিদ আহম্মেদ রনি (ভারপ্রাপ্ত), প্রভাষক ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর হিসাবে দায়িত্বরত আছি।
বিবাদী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ হতে অব্যাহতি প্রাপ্ত। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারনে তাহাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ০৯/০৯/২০২৪ ইং তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় হইতে অব্যাহতি প্রদান করেন। তার অব্যাহতির বিষয়টি সমাধান না হওয়ার পরেও এবং অনুমতি না থাক।
স্বত্বেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক মিটিং এ অংশগ্রহন করেন। ঘটনার দিন অদ্য ২৯/১২/২০২৪ ইং তারিখ বিকাল আনুমানিক ০৪.৩০ ঘটিকার সময় উল্লেখিত ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সভায় আলোচনাকালিন সময় বিবাদী অংশগ্রহন করেন। সভার আলোচ্য সূচীর ১০ নং পয়েন্টের আলোচনাকালিন তিনি পেছন থেকে রাগান্বিত হয়ে আমাকে বলেন যে, “বেশি বাড় বাইড়েন না, সমস্য হবে।”
এখন চাকুরী নাই কখনো যদি ফিরে পাই, তখন সব কিছুই দেখব। এর আগেওে আমার বিভাগের শিক্ষার্থীদের সামনে আমাকে অসম্মানজনকভাবে তুই তুকারী করে কথা বলেন। বিষয়টি শিক্ষক হিসাবে আমার জন্য মানহানীকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সামনে সরাসরি হুমকী প্রদান আমার জন্য আমি ক্ষতিকর মনে করছি। ভবিষ্যতে তিনি আমার যে কোন ক্ষতিসাধণ করিতে পারে বলে মনে করছি। উক্ত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করিতে আপনার মর্জি হয়।
এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সাধারন ডাইরীভুক্ত করিয়া রাখা একান্ত প্রয়োজন।অতএব, উপরোক্ত বিষয়টি আপনার থানায় সাধারন ডাইরীভূক্ত করিতে জনাবের মর্জি হয়।
জানা যায়, গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর পর এই শিক্ষক নাজিমউদ্দিন কে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেন। কিন্তু অদ্যাবধি এই নাজিমউদ্দিন এবং অন্য একজন শিক্ষক এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কাজ কর্মে নিয়োজিত আছেন।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে বহিষ্কার হওয়ার পরেও কিভাবে তারা এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল মিটিংয়ে থাকে এবং নতুন ভিসি ড. পেয়ার আহমেদ এর সাথে হাসপাতালে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে তাদেরকে দেখা গেছে।
তাহলে কি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমেই এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এমনটাই প্রশ্ন উঠেছে সাধারন মহল থেকে শুরু করে গণমাধ্যমে।