দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে গাজার কিছু এলাকা থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহার করেছে ইসরায়েল। এর আগে শুক্রবার থেকে ইসরায়েল-গাজা সীমান্তের ‘ইয়েলো লাইন’ ক্রসিং দিয়ে সেনাদের ফিরিয়ে আনা শুরু হয়।
শনিবার পর্যন্ত গাজার মধ্যাঞ্চলীয় শহরগুলোর মধ্যে শেজাইয়া, আল তুফাহ এবং জেইতুন এলাকা, সেই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের পূর্বাংশ ও দক্ষিণাংশ থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা এমন স্থানে অবস্থান নিয়েছে, যা উভয়পক্ষের কাছেই সম্মত। তবে উপত্যকার প্রায় অর্ধেক এখনও তাদের দখলে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি ফেরানোর পরিকল্পনার প্রথম ধাপ ইসরায়েল সরকারের অনুমোদনের পরই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, হামাসকে সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার মধ্যে সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে ২০ জন জীবিত এবং ২৮ জনের দেহাবশেষ হামাসের কাছে রয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলকেও তাদের কারাগারগুলোতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা আড়াইশো ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। এছাড়াও গাজা থেকে আটক করা ১৭০০ ফিলিস্তিনিকেও মুক্তি দিতে হবে। ইসরায়েল আর্মি রেডিও জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০০ জনকে পশ্চিম তীর ও পাঁচ জনকে পূর্ব জেরুজালেমে মুক্তি দেওয়া হবে।
সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, ত্রাণবাহী লরিগুলোকে গাজায় বাধাহীন প্রবেশ করতে দিতে হবে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরপরই হাজার হাজার ফিলিস্তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর গাজার দিকে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ প্রায় ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হেঁটেছেন। এদের অনেকেই দুর্বল ও অপুষ্টিতে ভুগছিলেন। অনেকেই ফিরছেন গাজা শহরের ধ্বংসস্তূপের মাঝে, যেখানে ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ হয়েছে এবং এখনও নিহতদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হচ্ছে। হামাস পরিচালিত গাজা সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার প্রায় দুই লাখ মানুষ গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিরেছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা দুশোর বেশি মার্কিন সেনাকে ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এই গাজা যুদ্ধবিরতি মনিটর করবেন।
ইসরায়েলে জিম্মিদের পরিবারও যুদ্ধবিরতির খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছে। নিহত জিম্মি তাল হাইমির আত্মীয় উরি গোরেন সমঝোতাকে ‘বড় স্বস্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও হামাস জানিয়েছে, নিহত সব জিম্মিদের দেহাবশেষের অবস্থান সম্পর্কে তাদের জানা নেই।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালালে ১২শ’ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। এরপর ইসরায়েলের অভিযানে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ হাজারই শিশু। জাতিসংঘ কমিশন ও বিশেষজ্ঞরা ইসরায়েলকে যুদ্ধের সময় গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করলেও ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করেছে।