ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা প্রদানকারী দেশগুলোকে সরাসরি সতর্ক করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে উদ্দেশ্য করে তেহরান বলেছে, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা প্রতিহত করতে কোনো দেশ সহায়তা করলে, তাদের মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ ও নৌবাহিনী ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে জানানো হয়, “যদি কোনো দেশ ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে ইরানি হামলা প্রতিহত করে, তবে সেই দেশের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব সামরিক অবকাঠামো ও বাহিনীকে আমাদের বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।”
এই হুঁশিয়ারি এসেছে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে যে তারা ইসরায়েলের আকাশসীমায় ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সহায়তা করেছে। যদিও যুক্তরাজ্যের সক্রিয় অংশগ্রহণের কোনো সরাসরি প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি, তবে পশ্চিমা জোটের ভূমিকা নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে।
ইসরায়েলের পরমাণু কেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনায় আক্রমণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরান সরাসরি পাল্টা হামলা চালায়। এই হামলায় ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবসহ একাধিক শহরে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, এই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও অনেক মানুষ আহত হয়েছে।
এর আগে, ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলায় ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীসহ ৭৮ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও ছিলেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩২০ জনের বেশি। এসব হামলার জবাবেই ইরান ‘বৈধ প্রতিরক্ষা’ হিসেবে এই পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইতিমধ্যেই তেহরানে তাদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। যুক্তরাজ্য তাদের দূতাবাস কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নজরদারি জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হুমকি এবং পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহৎ সামরিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিতে পারে। পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত।