আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে তিনদিনব্যাপী ঈদ উৎসবের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই আয়োজনের অংশ হিসেবে ঈদের দিন অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য ঈদের মিছিল।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রায় ৫০০ বছর আগে এই অঞ্চলে ঈদের মিছিল ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উৎসবের প্রতীক। সুলতানি আমল থেকে শুরু করে মোঘল আমলেও ঈদের দিনে বর্ণাঢ্য মিছিল আয়োজন করা হতো, যা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ছিল। হাতি, ঘোড়া ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরে এই মিছিল নাগরিক জীবনের প্রাণবন্ত সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, উপনিবেশিক শাসন ও জমিদারদের সাংস্কৃতিক দমনের ফলে ধীরে ধীরে এই ঐতিহ্য ক্ষীণ হয়ে যায়। বাঙালি মুসলমানের ওপর সাংস্কৃতিক আধিপত্য ও স্বৈরাচারী শাসনের কারণে ঈদের উৎসব একসময় শুধু ছুটির দিনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তবে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই সাংস্কৃতিক আধিপত্যে আঘাত আসে এবং আবারও ঈদের মিছিলের আয়োজন শুরু হয়।
আসিফ মাহমুদ জানান, গত বছর রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ঈদের মিছিলে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে নতুন মাত্রা দেয়। শিশু, তরুণ ও প্রবীণ—সব বয়সী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নিয়ে শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন।
তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতায় এবার শুধু ঈদের দিন নয়, বরং ঈদের আগের দিন থেকে টানা তিনদিনব্যাপী ঈদ উৎসব উদযাপন করা হবে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ঈদের আগের দিন চাঁদ রাতে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজন করা হবে মেহেদী উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশ নিতে পারবেন। চাঁদরাতে থাকবে ঈদের গান, কবিতা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন।
ঈদের দিন সকাল ১০টায় জাতীয় ঈদগাহ (হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ) থেকে শুরু হবে বর্ণাঢ্য ঈদের মিছিল। ঈদের নামাজের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নাগরিক উদ্যোগে ঝটিকা মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা এখানে জড়ো হবেন। মিছিলটি দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অতিক্রম করে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হবে।
এ সময় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ঝটিকা মিছিলের মধ্যে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ মিছিলকে পুরস্কৃত করা হবে। মিছিলে ঐতিহ্য অনুযায়ী থাকবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি, প্ল্যাকার্ড, হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি।
ঈদের পরদিন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হবে ঘুড়ি উৎসব। আয়োজকদের মতে, ঢাকার পুরোনো ঘুড়ি উৎসবকে ঈদের আনন্দের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি হবে।
এ আয়োজন বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি ও উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ঈদের মিছিলে থাকবে বিশেষ কিডস জোন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নাগরিক উদ্যোগে এই আয়োজন বাস্তবায়নের জন্য সর্বসাধারণের আর্থিক সহায়তাও গ্রহণ করা হবে।