নানা প্রলোভন দেখিয়ে ১৭টি বিয়ে করার অভিযোগে বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. কবির হোসেন পাটোয়ারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে তার ১৭ বিয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টি কবির হোসেন নিজেই নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্তের তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. কবির হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিধি ১২(১) অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে চাকরিতে বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করা হয়েছে। বরখাস্তকালে তিনি খোরপোশ ভাতা পাবেন এবং বরিশাল থেকে রংপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকবেন।
এর আগে বন বিভাগের পদ ব্যবহার করে নারীদের ফাঁদে ফেলার অভিযোগে তিনি দু’বার সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। তবে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির সুপারিশে পুনর্বহাল হন।
চলতি বছরের ৯ এপ্রিল খুলনার সোনাডাঙা এলাকার বাসিন্দা খাদিজা আক্তার বন ও পরিবেশ উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে উল্লেখ ছিল বিয়ের নামে প্রতারণা, যৌতুক দাবি ও নির্যাতন। এর আগে ২০১৯ সালে বাগেরহাটের মোংলার নাসরিন আক্তার দোলন একই অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন, যা এখনো বিচারাধীন।
নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ৯ এপ্রিল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা বরিশালে সরেজমিন তদন্ত করেন। কাশিপুরে বন বিভাগের কোস্টাল সার্কেল অফিসে দুই স্ত্রীসহ স্বজনদের লিখিত জবানবন্দি নেওয়া হয়। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কবির হোসেন চাঁদপুরের মতলব থানার তুষপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন পাটোয়ারীর ছেলে। তিনি আগে ঢাকা, খুলনা, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
বরখাস্তের পাশাপাশি মঙ্গলবার বরিশাল মহানগর আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।