সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ পর্যটনকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া সাদাপাথরের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) খনিজ সম্পদ ও পরিবেশ সচিবের পক্ষে সংক্ষিপ্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করলে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
এর আগে, গত ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট লুট হওয়া পাথর উদ্ধার করে ৭ দিনের মধ্যে পূর্বের স্থানে প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে, এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছিল। আদালতে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত এই বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদাপাথর লুট করেছে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ জন ব্যক্তি। এর ফলে খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এবং বিধিমালা ২০১২-এর ৯৩(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে এদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে ১৫ আগস্ট কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়।
পরিবেশগত ক্ষতি নিরসনের জন্য ২১ আগস্ট অতিরিক্ত সচিব (অপারেশন), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে আহ্বায়ক করে বুয়েটের একজন অধ্যাপকসহ ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাথর প্রতিস্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কাজও অব্যাহত আছে। পাথর কোয়ারির পুরো এলাকায় কঠোর নজরদারি চলছে।
প্রতিবেদন দাখিলের পর রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, “এটি খুবই সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন। হাইকোর্টে চারটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল। তারা দায়ী ব্যক্তিদের তালিকা দেয়নি এবং সম্পূর্ণ পাথরও উদ্ধার হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কাজ না হওয়ায় আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ২২ অক্টোবর সময় রেখেছেন। ওই সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করার প্রত্যাশা রাখি।”
এ ঘটনায় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করে। এরপর হাইকোর্ট ১৪ আগস্ট রুল জারি করে ৭ দিনের মধ্যে লুট হওয়া পাথর প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।