ক্ষমতার অপব্যবহার, রায় জালিয়াতি, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের একাধিক মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানা গেছে, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল সংক্রান্ত একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিষয়ে জালিয়াতি, সরকারি সম্পদ অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ২০১১ সালের মে মাসে অবসরে যান। অবসরের ঠিক আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় প্রদান করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিলেন।
পরে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায় এবং তাকে বিচার বিভাগের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নষ্টকারী হিসেবে চিহ্নিত করে।
প্রধান বিচারপতির দায়িত্বকাল এবং পরবর্তী সময়ে তার বেশ কিছু রায় এবং কাজ বিচার বিভাগে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের উপেক্ষা করে পদোন্নতি নেন, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে অবস্থান নেন, এবং সরকারি তহবিল থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করেন।
শহীদ জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া, আগাম জামিন বাতিল, এবং খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে উচ্ছেদের মতো ঘটনায়ও তার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।