করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ হাজার ৮৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১১ হাজার ৫৯৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। একই সময়ে নতুন করে ভাইরাসটিতে আরো ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৩ জনের মধ্যে নারী ১১ জন, পুরুষ ২২ জন। তাদের মধ্যে ১৮ জন ঢাকায় মারা গেছেন। চট্টগ্রামে দুইজন, রাজশাহীতে চারজন, খুলনায় ছয়জন, সিলেটে দুইজন ও রংপুর বিভাগে একজন মারা গেছেন।
মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের ১০ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের ৮ জন ও ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ৭ জন।
দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭৬ জন। মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সরকারি হিসাবে করোনার সংক্রমণে মোট ২৮ হাজার ৪৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত বিবেচনায় মোট মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৫ হাজার ৯৫৫ জন গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের নিয়ে দেশে মোট সেরে উঠলেন ১৫ লাখ ৮১ হাজার ৯২ জন। শনাক্ত বিবেচনায় দেশে মোট সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।
বিশ্বব্যাপী করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করার পর বাংলাদেশেও দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে।
গত ডিসেম্বরের প্রথম দিকেও দেশে করোনা শনাক্ত এক শতাংশের ঘরেই ছিল। তবে গত মাসের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। গত মাসের শেষদিকে যেখানে দৈনিক রোগী শনাক্ত পাঁচশ’র ঘরে ছিল, সেখানে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে সেই সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায় ১০ জানুয়ারি।
গত ২৫ জানুয়ারি দৈনিক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড হয়। এদিন মোট ১৬ হাজার ৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।