শিরোনাম
ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৮ দিল্লিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক সম্মেলন দুর্গাপূজায় ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপ, নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএনসিসির নতুন দুটি ওয়ার্ড গঠনের উদ্যোগ ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল প্রায় ১২ টাকা, নতুন দর ১০৮.৭৮ টাকা চীনের বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির মাগুরায় ৫০৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা এজাহরা আল মানসুরি অক্টোবর-নভেম্বরে এলএনজি ঘাটতির আশঙ্কা নেই: পেট্রোবাংলা শাহজালাল বিমানবন্দরে ৮১.৫০ লিটার বিদেশি মদ আটক সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতায় সন্তুষ্ট আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টির প্রবণতা বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ন

বাড়বে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৭০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১

আগামী বছরের শুরুতে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়বে। ভর্তুকি সামাল দিতে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন আর্থিক মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সদস্যরা। বুধবার এ সংক্রান্ত কমিটির সভায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়।

এতে বলা হয়, এ দুটি পণ্যের মূল্য সমন্বয় করা না হলে চলতি অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অর্থ সংকটের কারণে বিপুল অঙ্কের এই ভর্তুকি বহন করা সম্ভব নয়।

ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের কাছে বিকল্প কোনো পথ নেই। ওই বৈঠকে সুদের ব্যয় ও ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধিকে অর্থনীতির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় মূল্যস্ফীতি নিয়ে। তবে রাজস্ব আহরণ ও এডিপি বাস্তবায়ন হার ভালো থাকায় জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ অর্জন হবে-এমনটি প্রত্যাশা করা হয়। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বৈঠকে রেমিট্যান্স কমে যাওয়াকে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব হিসাবে দেখা হয়েছে। ফলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে বিদ্যমান ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া করোনার কারণে এডিপির অর্থ ব্যয় ২৫ শতাংশ স্থগিত রাখার যে শর্ত ছিল তা প্রত্যাহার করা হয়।

এছাড়া সরকারের ঋণের সুদ হার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরও সুদ খাতে ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে সরকারের প্রয়োজনীয় ঋণ ব্যাংক থেকে বেশি এবং সঞ্চয়পত্র খাত থেকে কম নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

‘আর্থিক মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত বৈঠকে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়।

দুপুর ২টায় জুম বৈঠক শুরু হয়ে চলে চারটা পর্যন্ত। অর্থনীতি খাতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে আমদানি, রপ্তানি পরিস্থিতি, এডিপিসহ চলতি বাজেট বাস্তবায়ন হার নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া ভর্তুকি পরিস্থিতি, সুদ হার, ব্যাংক ঋণ পরিস্থিতি, পুঁজিবাজার, রাজস্ব খাত, সঞ্চয়পত্র, মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধির বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

জানা গেছে, চলতি বাজেটে ভর্তুকি ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু অর্থ বিভাগ হিসাব করে দেখছে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে দেশে জ্বালানি তেল, সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ভর্তুকি বেড়ে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও আগামীতে দেশের ভেতর এই মূল্য কমানোর কোনো প্রস্তাব করা হয়নি। ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনতে নতুন করে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। যা আগামী বছরের শুরুতে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

তবে কৃষকের সারের মূল্য পরে সমন্বয় করা হবে। সূত্র জানায়, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের পরও ভর্তুকি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি হবে।

বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ধরা হলেও বছর শেষে ধারণা করা হচ্ছে এটি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে চলে যেতে পারে।

যদিও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বলেছে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি হবে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ওই বৈঠকে আগামী অর্থবছরের (২০২২-২৩) মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

সরকার জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তা অর্জন সম্ভব বলে বৈঠকে জানানো হয়। এতে বলা হয়, বর্তমান রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি ভালো। গত বছরের তুলনায় রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ শতাংশ।

এর মধ্যে এনবিআর রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হয়েছে। পাশাপাশি গত নভেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে।

আর বাজেট বাস্তবায়ন হারও বেড়েছে তুলনামূলক ১০ শতাংশ। এছাড়া রপ্তানি ও আমদানি পরিস্থিতি ভালো অবস্থায় আছে। রপ্তানি পণ্যের বাজার চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে আছে। ফলে এসব সূচক বিবেচনায় ধরে নিচ্ছে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব।

এছাড়া করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়, ওমিক্রন দ্রুত সম্প্রসারণ হলেও মৃত্যু কম। এরই মধ্যে বুশটার ডোজ চলে এসেছে। পাশাপাশি আগামী মার্চ পর্যন্ত দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় চলে আসবে।

ফলে ওমিক্রন অর্থনীতির জন্য হুমকি মনে করা হচ্ছে না। সেখানে দেখানো হয়, এ পর্যন্ত টিকা কেনা বাবদ ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। তবে বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে পাওয়া গেছে ৬ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ৬ হাজার কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ