শিরোনাম
ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৮ দিল্লিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক সম্মেলন দুর্গাপূজায় ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপ, নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএনসিসির নতুন দুটি ওয়ার্ড গঠনের উদ্যোগ ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল প্রায় ১২ টাকা, নতুন দর ১০৮.৭৮ টাকা চীনের বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির মাগুরায় ৫০৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা এজাহরা আল মানসুরি অক্টোবর-নভেম্বরে এলএনজি ঘাটতির আশঙ্কা নেই: পেট্রোবাংলা শাহজালাল বিমানবন্দরে ৮১.৫০ লিটার বিদেশি মদ আটক সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতায় সন্তুষ্ট আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টির প্রবণতা বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

আল্লাহভীরু বন্ধু থাকার গুরুত্ব

মুহাম্মদ সুয়াইব আহমেদ / ৪২০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২১

আরবি তাকওয়া শব্দ থেকে মুত্তাকি শব্দের উৎপত্তি। তাকওয়া শব্দের বাংলা অর্থ আল্লাহভীতি। মুত্তাকি হলো যাদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার ভয় আছে এবং যারা আল্লাহ তাআলার ভয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় মুত্তাকিদের গুণাবলির কথা বলা হয়েছে।

নিম্নে কোরআনে বর্ণিত আল্লাহভীরুদের গুণাবলি তুলে ধরা হলো।

  • অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি ঈমান আনা : আল্লাহভীরুদের প্রধান গুণ হলো তারা গায়েবি তথা অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি ঈমান আনে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা অদৃশ্যের বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদের যে জীবিকা দান করেছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩)
  • ক্ষমা করা : কারো ভুল কিংবা অপরাধের পর তাকে ক্ষমা প্রদর্শন করা ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। কোরআনে ক্ষমা করাকে মুত্তাকিদের গুণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা যদি ক্ষমা করো, তবে তা হবে তাকওয়ার নিকটবর্তী।’(সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৩৭)
  • গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা : মুত্তাকিদের অন্যতম গুণ হলো, তারা গুনাহ থেকে নিজেদের দূরে রাখে। যদি কখনো গুনায় জড়িয়ে পড়ে, তারা দ্রুত তাওবা করে নিজেদের সংশোধন করে নেয়। আল্লাহ বলেন, ‘যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের ওপর শয়তানের আগমন ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে ওঠে।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ২০১)
  • সত্যান্বেষী : আল্লাহভীরুরা সত্যান্বেষী হয়ে থাকে।  আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা হলো সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই মুত্তাকি।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৩৩)
  • দান করা : মুত্তাকিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তারা সুখে-দুঃখে দান-সদকা করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘(আল্লাহভীরু তারাই) যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, আর আল্লাহ তাআলা সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
  • রাগ নিয়ন্ত্রণ করা : রাগ মানুষের একটি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাগ অন্যায় কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই ইসলাম মানুষকে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, আর আল্লাহ তাআলা সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
  • আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করা : মুত্তাকিরা আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান প্রদর্শন করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তা তো তার হৃদয়ের আল্লাহভীতির কারণে।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩২)
  • ন্যায়পরায়ণ হওয়া : ন্যায়পরায়ণ হওয়া এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা মুত্তাকিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ন্যায়বিচার পরিত্যাগে প্ররোচিত না করে। তোমরা সুবিচার কোরো, এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় কোরো। তোমরা যা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৮)
  • রাত জেগে ইবাদত করা : পবিত্র কোরআনে রাতের শেষাংশে ইবাদত করাকে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা অত্যন্ত ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সৎপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫)

বর্তমান যুগে আমরা বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাধারণত ধন-সম্পদকে প্রাধান্য দেই, এ ছাড়াও রাজনৈতিকভাবে বা কর্মক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আত্মীয়-স্বজনের পরিচয় দেওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষ ধন-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তির হিসাব করি। অথচ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা এমন করতে নিষেধ করেছেন।

ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তুমি নিজকে ধৈর্যশীল রাখ তাদের সঙ্গে, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে, তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশে এবং দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তোমার দুই চোখ যেন তাদের থেকে ঘুরে না যায়। আর ওই ব্যক্তির আনুগত্য করো না, যার অন্তরকে আমি আমার জিকির থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে এবং যার কর্ম বিনষ্ট হয়েছে।’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ২৮)

উল্লিখিত আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে আল্লাহওয়ালাদের দূরে সরিয়ে আল্লাহভোলা লোকদের পেছনে পড়তে নিষেধ করেছেন।
এর আরেকটি গুরুত্ব হলো, সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষ যার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে, ওঠা-বসা করে তার ব্যক্তিত্বের প্রভাব মানুষের ওপর পড়তে শুরু করে। তাই আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এমন লোকদের থেকে দূরে থাকতে বলেছেন, যারা আল্লাহকে স্মরণ করার ব্যাপারে উদাসীন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতির অনুসারী হয়। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন লক্ষ্য করে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৩৩)

অন্য হাদিসে নবীজি বলেছেন, ‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উপমা হলো কস্তুরী বহনকারী (আতর বিক্রেতা) ও কামারের হাপরের মতো। মৃগ কস্তুরী বহনকারী হয়তো তোমাকে কিছু দান করবে কিংবা তার কাছ থেকে তুমি কিছু খরিদ করবে কিংবা তার কাছ থেকে তুমি লাভ করবে সুবাস। আর কামারের হাপর হয়তো তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে কিংবা তুমি তার কাছ থেকে পাবে দুর্গন্ধ।’ (বুখারি, হাদিস : ৫১৩৬)

এভাবেই দুনিয়ার জীবনে মানুষ যদি সৎ ও আল্লাহওয়ালাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে, তাহলে তারাও তাদের সঙ্গগুণে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি যত্নবান হবে, যা তাদের ইহকাল ও পরকালকে মসৃণ করবে, আর যারা দুনিয়ার মিছে ধন-সম্পদ, প্রভাব প্রবৃত্তির নেশায় অসৎ লোকদের সঙ্গ গ্রহণ করবে, তারা দুনিয়া-আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের সঙ্গী হবে আফসোস।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘জালিম ব্যক্তি সেদিন নিজের দুই হাত দংশন করতে করতে বলবে, হায়, আমি যদি রাসুলের সঙ্গে কোনো পথ অবলম্বন করতাম। হায়, দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! আমাকে তো সে বিভ্রান্ত করেছিল আমার কাছে উপদেশ পৌঁছার পর। আর শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ২৭-২৯)

তাই কারো সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আগে যাচাই করা উচিত, লোকটা ঈমানদার কি না। এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে মহানবী (সা.) বলেন, ‘তুমি মুমিন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গী হবে না এবং তোমার খাদ্য যেন পরহেজগার লোকে খায়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৩২)


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ