শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। তারা দেশের অগ্রযাত্রা ও সরকারের অর্জনকে ব্যাহত করতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ৭১ ও ৭৫-এর ঘাতকরা আবারো দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হচ্ছে। তারা সবাই এক ও অভিন্ন। স্বাধীনতাবিরোধী, দেশবিরোধী, দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রকারীরা সবাই এক হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সব অপরাধী তার অপরাধের কিছু না কিছু প্রমাণ এবং নমুনা রেখে যায়। দেশে এ ধরনের প্রতিটি নাশকতার পেছনে এক ও অভিন্ন নমুনা দেখতে পাচ্ছি ।
তিনি আরও বলেন, তারা এখন আবার নানান রকমের দাবি তুলছেন। যে দাবির কোনো ভিত্তি নেই। তারা এখন বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা, যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মৃত। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওয়াজ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করে সেই জলে তারা মাছ শিকার করতে চায়। তাই এ অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
ডা. দীপু মনি বলেন, এই অপশক্তি এখন বলছে দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। দেশে যদি গণতন্ত্রই না থাকে তাহলে যে দলটি সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন সেই দলটি আমাদের গণমাধ্যমে এত সময় পায় কীভাবে। গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে যতটুকু দেখা যায় ওই দলের নেতাকর্মীদের তার সমান অথবা বেশি দেখা যায়। যদি দেশে গণতন্ত্র না থাকে তাহলে তাদের এই কথা বলার সুযোগ আসলো কীভাবে। গণতন্ত্র না থাকলে তারা কীভাবে বিভিন্ন সভা সমাবেশ করে এবং অনুষ্ঠান পালন করে।
সাংবাদিক এমআর ইসলাম বাবুর সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দীন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওচমান গনি পাটোয়ারী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল।
এছাড়া অনুষ্ঠানে মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষে বক্তব্য রাখেন- দক্ষিণ তরপুরচন্ডী কাজীপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাসান রুহানী। চান্দ্রা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মো. আল আমিন। হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে বক্তব্য রাখেন- জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট রনজিত রায় চৌধুরী টিঙ্কু, হরিবোলা সমিতির সভাপতি অজয় কুমার ভৌমিক।