চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে একাধিক পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন যুবক ও এক কিশোর নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ও একজন বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টৈাবর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে মারা যান।
এ ঘটনায় বিকেলে জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় হামলার শিকার কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন জানান, আত্মরক্ষা ও সম্পদ রক্ষার্থে পুলিশ ঘটনাস্থলে গুলি চালিয়েছে। এতে চারজন নিহত হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ সাতজনকে আটক করেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে। সম্পদের ওপর আঘাত এসেছে, মানুষের জীবনের ওপর আঘাত এসেছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতির আলোকে যারা শৃঙ্খলারক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তারা আত্মরক্ষায় এবং জানমালের নিরাপত্তায় ফায়ারিং করেছে। সর্বমোট চার জন নিহত হয়েছে। সাত জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৯ পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছে।
নিহতরা হলেন- টাইলস মিস্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুন্দরপুর বাগডাঙা এলাকার সামছুর ছেলে বাবলু (৩৫), হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়ার শুকু কমিশনার বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে আল আমিন (১৮) ও একই ওয়ার্ডের সেকান্দর বেপারী বাড়ীর মো. ফজলুর ছেলে হৃদয় (১৪)। এ ছাড়াও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে হাজীগঞ্জ পৌরসভার রান্ধুনীমুড়ার বাচ্চুর ছেলে শামীম (১৯) মারা গেছেন।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় বুধবার রাত ১২টার পর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনা তদন্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, বুধবার রাতে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় তৌহিদী জনতার ব্যানারে মিছিল বের করে লক্ষ্মীনারায়ণ আখড়ায় হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। তখন পুলিশ গুলি চালায়। এতে চার জন নিহত ও পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাজীগঞ্জ বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এসএম শোয়েব আহমেদ চিশতী বলেন, হাসপাতালে ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় আসেন। তাদের কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, তিন জন নিহতের বিষয়টি হাসপাতালে রেকর্ড করা আছে। অপর জনের রেকর্ড নেই। এর মধ্যে দুই জন ঘটনাস্থলে মারা গেছেন, অপরজনকে হাসপাতালের নেওয়ার পর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ১৯ জন পুলিশ সদস্যসহ ২৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বলেন, সংঘর্ষে আমাদের বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। চার জন নিহত হয়েছেন।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, বিজিবি মোতায়েন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহি দাস বণিক বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে মন্দিরে হামলা চালালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়।