মৌমাছি মৌছাছি কোথা যাও নাচি নাচি। দাঁড়াও না একবার ভাই। ঐ ফুল ফোটে বনে যাই মধু আহরণে দাঁড়াবার সময় তো নাই।’ নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের ‘কাজের লোক’ কবিতার মতই এক সময় ছিল মৌমাছির বিচরণ। এখন আর মৌমাছি ও মৌচাক তেমন দেখা যায় না। নগরায়ণের সাথে সাথে বর্তমান প্রজন্মের শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা মৌমাছির কথা প্রায় ভুলতে বসেছে।
এক সময় মতলব উত্তরের গ্রামীণ জনপথের আশেপাশে ঝোপ ঝাড়ে, বাগান-বাড়ি, আঙ্গিনার উঁচু গাছের বাঁকা ডালের নিচে মৌমাছি ও মৌচাক দেখা যেত। তবে প্রাকৃতিকভাবে এখন তেমন আর দেখতে পাওয়া যায় না। এখন মধু সংগ্রহকারীরা বিভিন্ন ফসলের মাঝে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌ চাষ করছেন।
কালের বিবর্তনে মৌমাছির সংখ্যা এতটাই কমেছে যে, মুক্ত মৌমাছির ভোঁ-ভোঁ শব্দ এখন আর শুনতে পাওয়া যায় না। গ্রাম-গঞ্জে বিভিন্ন ফলফলাদির গাছে মৌমাছির চাক তেমন চোখে পড়ে না। মৌমাছির প্রজনন বৃদ্ধি ও বসবাসের পরিবেশের অভাবে মুক্ত মৌমাছি ও মৌচাক হারিয়ে যাচ্ছে।
আগে রবি ফসল ও মৌসুমী ফুলে হাজারো মৌমাছির বিচরণ থাকতো। এ যেন রস আহরণের প্রতিযোগিতা। মুখে রস নিয়ে মৌমাছি চলে যেত আপন গন্তব্যে। এদিকে মৌমাছি বিলুপ্ত হতে থাকায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে ফল ও ফসল উৎপাদনে। মৌমাছি ফুলের রস আহরণ করে জীবন ধারণ করে। উপহার দেয় প্রকৃতির বিস্ময়কর নিয়ামক মধু। ফুলে মৌমাছিসহ নানা পোকামাকড় বিচরণের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবেই ফুল থেকে ফল ও ফসল ফলে।
মধু সংগ্রহকারী পৌরসভার সুগন্ধি গ্রামের আহম্মদ উলাহ জানান, বর্তমানে মৌচাক খুঁজে পাওয়া যায় না। মৌমাছির সংখ্যাও কমে গেছে। এক সময় সহজেই মধু পাওয়া যেত এখন সেটা আর নেই। তবে মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভায় পশ্চিম জোড়খালী গ্রামের বোরহান উদ্দিনের একটি পুরাতন বটগাছে কয়েক বছর ধরে দুটি মৌমাছির চাক রয়েছে। এ চাক দুটি থেকে মধু আহরণের পরও মৌমাছি গুলো পুনরায় সেখানে বাসা বাঁধে।
পাখি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়াং স্টার ক্লাব এর সভাপতি মোঃ নেছার উদ্দিন জানান, মৌমাছি বা মৌচাক হারিয়ে যাওয়ার বড় কারণ হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এছাড়াও তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বসবাসের উপযোগী পরিবেশের অভাব, খাদ্যের অভাব, ফসলে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের প্রয়োগ, মধু সংগ্রহকারীদের মৌমাছি পুড়িয়ে হত্যা করাসহ নানাবিধ কারণে মৌমাছি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
কৃষি প্রধান দেশে ফসল ও ফলফলাদির উৎপাদন বৃদ্ধিতে মুক্ত মৌমাছি যে হারে মতলব উত্তর থেকে কমে যাচ্ছে তাতে এ অঞ্চলে ভবিষ্যতে কৃষির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ প্রসঙ্গে কবি নুর মোহাম্মদ খান বলেন বলেন, মধুতে প্রচুর পুষ্টি ও খাদ্য গুণ রয়েছে। মধু দুধ বা পানি দিয়ে মিশ্রণ করে খেলে নিমিষেই হারানো শক্তি ফিরে পাওয়া যায়। সুস্বাস্থ্য গঠনে ও বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে মধু ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও কোমলতা বাড়ানোর জন্য মধু বিশেষভাবে উপকারী ।