চাঁদপুরে মতলব উত্তরে নাগরিক দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে মের্সাস সমু মেশিন ওয়েল কোং (মবিল কারখানা)। এতে নির্গত হচ্ছে কেমিক্যাল বর্জ্য ও নোংরা পানি। এলাকার মেঘনা -ধনাগোধা নদী ও খালে পেরিয়ে এই পানিতে দূষিত হচ্ছে নদী। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বেড়েছে নাগরিক দুর্ভোগ।
এবিষয়ে মতলব উত্তর থানা, নির্বাহী অফিসার কার্যালয়, এসপি অফিস ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন এলাকাবাসীরা।
অভিযোগ সূত্র জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলার কালিপুর বাজার সংলগ্ন মের্সাস সমু মেশিন ওয়েলের মালিক লোকমান হোসেন ঢালী খরচ বাঁচানোর জন্য রাতের আঁধারে তাদের শিল্প-কারখানার বর্জ্য কোনও শোধন না করেই সরাসরি নদী সংযোগ খালে ছেড়ে দিচ্ছে।
এদিকে বায়ু দূষনের কুফলে এসব নির্গত কালো ধোয়ার কারণে পরিবেশ ও বায়ু দূষণ করে মানুষের শ্বাস কষ্ট, হাপানিসহ নানা রোগ বালাইয়ের সৃষ্টি করছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার কালিপুর বাজার সংলগ্ন এ মের্সাস সমু মেশিন ওয়েল এলাকার খাল ও নদীর পানি কালো ও হয়ে আছে। উৎকট দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম স্থানীয়দের। এসব নোংরা ময়লা পানিতে জন্ম হচ্ছে মশার। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। এই মবিল কারখানার পাশেই রয়েছে বাজার, হাসপাতাল, স্কুল কলেজ ও মতলব -ঢাকা যাতায়াতের ট্রলার সংযোগ। এখান দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের সমাগম।
এ এলাকার বাসিন্দারা জানান, পানি নিস্কাশনের সব খালের পানির রঙ লাল ও কালো হয়ে গেছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে এই অবস্থার মধ্যেই এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ বসবাস করে আসছেন। সমু মেশিন ওয়েলের মালিক লোকমান ঢালী ব্যবসার কথা চিন্তা করলেও সাধারণ মানুষের কোনও চিন্তা তার নেই। ফলে মবিল কারখানার দুর্গন্ধ মানব দেহের বিভিন্ন ক্ষতি করে।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, এই মবিল কারখানায় ক্ষতিকারক স্পিরিট, প্লাস্টিক কনা ও পোরা মবিল ব্যাবহার করছে। তাছাড়া সরসারি বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি সরাসরি খালে ও নদীতে ছাড়ার কারণে এ এলাকা দূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
এ বিষয়ে মের্সাস সমু মেশিন ওয়েলের মালিক লোকমান হোসেন ঢালী বলেন, আমি সরকারি সকল নিয়ম-কানুন মেনেই কাজ করছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা।