শিরোনাম
ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৮ দিল্লিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক সম্মেলন দুর্গাপূজায় ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপ, নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএনসিসির নতুন দুটি ওয়ার্ড গঠনের উদ্যোগ ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল প্রায় ১২ টাকা, নতুন দর ১০৮.৭৮ টাকা চীনের বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির মাগুরায় ৫০৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা এজাহরা আল মানসুরি অক্টোবর-নভেম্বরে এলএনজি ঘাটতির আশঙ্কা নেই: পেট্রোবাংলা শাহজালাল বিমানবন্দরে ৮১.৫০ লিটার বিদেশি মদ আটক সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতায় সন্তুষ্ট আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টির প্রবণতা বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সায়মন ড্রিং মারা গেছেন

দর্পণ ডেস্ক / ২৭৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১

অন্ত্রের সমস্যায় রুটিন সার্জারির সময় গত শুক্রবার (১৬ জুলাই) তিনি মারা যান। লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশার এক ফেসবুক পোস্ট থেকে এ খবর জানা যায়।

সাইমন ড্রিং ষাটের দশক থেকে দীর্ঘসময় বিবিসিতে ওয়ার করেসপন্ডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতময় দেশের যুদ্ধের ওপর রিপোর্টিং করেছেন তিনি।

সাইমন মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্যাংককের ওয়ার্ল্ড নিউজপেপারে সম্পাদনা সহকারি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধে রয়টার্স এবং অন্যান্য সংবাদ সংস্থাগুলোর হয়েও রিপোর্টিং করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাইমন ড্রিং গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম বিদেশি সাংবাদিক। জীবন বিপন্ন রেখে সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করে সারাবিশ্বকে জানিয়ে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর লোমহর্ষক নির্যাতন ও গণহত্যার কথা।

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভরা ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালোরাতে সাইমন ড্রিং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে লুকিয়ে ছিলেন।

তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক আইনের তোয়াক্কা না করে ২৭ মার্চ তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করে ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রতিবেদন আকারে প্রেরণ করেন।

যা ‘ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান’ শিরোনামে (৩০ মার্চ) প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত সৃষ্টিতে তার এ প্রতিবেদনটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে সাড়া জাগিয়েছিলো।

ওই প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ‘আল্লাহর নামে আর অখণ্ড পাকিস্তান রক্ষার অজুহাতে ঢাকা আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত ও সন্ত্রস্ত এক নগর। পাকিস্তানি সৈন্যদের ঠাণ্ডা মাথায় টানা ২৪ ঘণ্টা গোলাবর্ষণের পর এ নগরের…।’

১৯৭১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাকে জোরপূর্বক দেশ থেকে বের করে দেয়। ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়ে পুনরায় নভেম্বর, ১৯৭১ সালে কলকাতায় আসেন তিনি। সেখান থেকে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় খবরা-খবর নিরপেক্ষভাবে প্রেরণ করতেন।

১৬ ডিসেম্বর তারিখে বিজয়ের দিনে যৌথবাহিনীর সঙ্গে তিনিও ঢাকায় এসেছিলেন।

কর্মজীবনে সাইমন ড্রিং বাইশটি যুদ্ধ কাভার করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি খোমেনিকে প্যারিস থেকে ইরানে ফেরত যাওয়ার বিমানে ছিলেন। সাইমন বেশ কয়েকবার আহত হন এবং তাকে উগান্ডায় বন্দী করে রাখা হয়েছিলো। তাকে মৃত্যুদণ্ডের হুমকিও দেওয়া হয়েছিলো।

সাইমন ব্রিটেন এবং আন্তর্জাতিকভাবে অনেক পুরষ্কার লাভ করেন। তিনি জন সিম্পসনসহ বিবিসির আরও অনেক সংবাদদাতাদের সঙ্গে কাজ করেন।

১৯৯৭ সালে ড্রিং বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। বাংলাদেশে আধুনিক টেলিভিশনের নতুন ধারা তৈরি করেন।

ইংল্যান্ডের নরফোকের ফাকেনহাম শহরে ১১ জানুয়ারি, ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন সাইমন ড্রিং। শৈশবে আওজ নদীতে উলঙ্গ অবস্থায় সাঁতার কাটার অভিযোগে তাকে বোর্ডিং স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো।

এরপর তিনি কিংস লিন টেকনিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৬ বৎসর বয়সে তিনি গৃহত্যাগ করেন। ১৯৬২ সালে বহিঃবিশ্ব ভ্রমণের অংশ হিসেবে ভারত ভ্রমণে আসেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে অবশেষে যোগ দেন সাংবাদিকতায়।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ