চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড শংকরপুর সর্দার বাড়িতে সম্পত্তিগত বিরোধে শাহরাস্তি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন চলমান বিরোধের জের ধরে গত ১৯ মার্চ রুহুল আমিন গং অমীমাংসিত বিরোধ স্বত্ত্বেও ওই জায়গায় ঘর তোলায় মিজানুর রহমান গং এই অভিযোগ করে।
অভিযোগ সূত্রে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের দাদা নাসির উদ্দীনের ২৪ শতাংশ সম্পত্তি থেকে বিএস ২৮০ ও সাবেক ৪৮ দাগে ১৪.৬২ শতাংশ জায়গা রুহুল আমিন সহ বাড়ির অন্যান্য জনের কাছে ৮-৯ ভাগে বিক্রি করে। কিন্তু রুহুল আমিন গং জোর পূর্বক সোয়া ১৬ শতাংশ দাবী করে ওই জায়গায় ঘর তোলে। ঘটনায় ২০০৪ সাল থেকে বিরোধ শুরু। গত কয়েক মাসে স্থানীয় চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি মাস্টার জাকির হোসেন, সালীশদার মনির হোসেন ও ফারুক হোসেন পাটওয়ারী সহ কয়েকজন ১৩-১৪টি সালিশী বৈঠকে সিদ্ধান্ত দিতে না পারায় থানায় অভিযোগের পরামর্শ দেয়। ২৫ মার্চ প্রথম সালিশী বৈঠকে জায়গা মাপার জন্য উভয় পক্ষ ওই বাড়ির মোশাররফ হোসেন নামে এক সালিশদারের কাছে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জমা দেয়। এমনকি রুহুল আমিন গংয়ের ঘরের ভিতর জায়গা পেলে তারা ওই ৫ হাজার টাকা ও অন্য সকল খরচ বহন করবে বলে জানায়। পরবর্তীতে জায়গা মেপে তাদের ঘরে জায়গা পাওয়ায় রুহুল আমিন গং অমীমাংসিত সালিশী বৈঠক ছেড়ে চলে যায়।
এই বিষয়ে কথা হয় অভিযোগের বাদি মিজানুর রহমান ও তার ভাই ফরিদ উদ্দীন সর্দারের সাথে। তারা বলেন, আমাদের দাদার ২৪ শতাংশের মধ্যে আমরা বিক্রি ব্যাতীত ৭.৫০ শতাংশ দখলে থাকার কথা থাকলে মাত্র ৬ শতাংশ দখলে আছি। ওদের ক্রয়কৃত ১৪.৬২ শতাংশ ছাড়াও আরও ১.৫০ শতাংশ অতিরিক্ত দখলে আছে। যাহা সালীশদারগণ তাদের একপক্ষীয় বক্তব্য ও মানমান্যতা না হওয়ায় সমাধান দিতে পারেনি।
এই বিষয়ে বিবাদী রুহুল আমিনের ছেলে ছিদ্দিকুর রহমান ও তার চাচাতো ভাই মো. আব্দুল কাদের জানান, তাদের সাথে ৫২ দাগে নিজস্ব ১ শতাংশ সহ মোট আড়াই শতাংশ জায়গা রদরবদল করা হয়। বর্তমানে তারা সেটি মানছে না। এজন্য বিরোধ। আমরা আইনের মাধ্যমে লড়বো।
শাহরাস্তি থানা সহকারি উপ-পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন জানান, বিষয়টি স্থানীয় সালীশদারদের বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছি। এখনও সমাধান হয় নি। সমাধান না হলে কোর্টের মাধ্যমে আইনী ব্যবস্থা করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মঙ্গলবার ৬ জুলাই ঘর তোলার বিষয়ে সালীশদারগণ আমাকে কিছুই অবগত করেননি।
বাদী মিজানুর রহমান গং জানান, সালীশদারগণ উভয়পক্ষের সমাধানের জন্য স্ট্যাম্পে দস্তখত নিয়েছেন।
মো. ফরিদ উদ্দীন সর্দার জানান, ৫২ দাগে ১ শতাংশের বেশি(দোকান ও আশপাশ) আমরা পাওনা নাই। বাকী জায়গা আমরা দখলে আছি সেটিরও কাগজে-কলমে ও বাস্তবে প্রমাণ নাই। কিন্তু তারা আমাদের সাথে জায়গা রদবদল করেছে বলে মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছে।