নিউ স্ট্যান্ডার্ড ফাইনান্স এন্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এর লক্ষীপুর শাখা ম্যানেজার হানিফ আলীর বিরুদ্ধে ঋন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, তিনি নিউ স্ট্যান্ডার্ড ফাইনান্স এন্ড কমার্স মাল্টিপারপাস এর নাম ভাঙ্গিয়ে শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন পলাতক রয়েছেন। এই হানিফ আলীর ভোটার আইডি কার্ডের স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া আছে চুয়াডাঙ্গা জেলায়, বর্তমান ঠিকানা দেওয়া হয়েছে যশোর। কিন্তু তার স্থায়ী ঠিকানা চাঁদপুর মতলব উত্তরে। বর্তমানে তিনি থাকেন চাঁদপুরে। একই ব্যাক্তির ৪/৫টি ঠিকানা। তবে তার এন আইডি কার্ড থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে সেটি অনুযায়ী তার বর্তমান ঠিকানা যশোরে।
ম্যানেজার হানিফ আলী চাঁদপুর, লক্ষীপুর, রায়পুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গ্রাহককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে নিউ স্ট্যান্ডার্ড ফাইনান্স এন্ড কমার্স মাল্টিপারপাস থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা লোন দেওয়ার কথা বলে নামে বেনামে বহু লোকের কাছ থেকে লোন দেওয়ার আগেই অগ্রিম কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নেন।
এই নিউ স্ট্যান্ডার্ড ফাইনান্স এন্ড কমার্স মাল্টিপারপাস লিঃ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে জানা গেছে, গত ৫আগস্টে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী সরকারের পালিয়ে যাওয়ার পর এই কোম্পানির মালিক ও ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মোবারক পলাতক রয়েছেন ।
এই কোম্পানির নামে গ্রাহকের নানান অভিযোগ থাকায় ২১আগস্ট বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীরা তাদের অফিস ঘেরাও করলে মালিক পক্ষ গা ঢাকা দিয়ে চলে যায়। কিন্তু বর্তমানে তাদের গ্রাহকরা টাকা না পেয়ে জেলা অফিসগুলোর দ্বারস্থ হচ্ছেন।
আর তারমধ্যে লক্ষীপুর জেলা সদর শাখার দায়িত্বে ছিলেন হানিফ আলী। বর্তমানে তাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।পরে তার সাথে ফোনালাপকালে প্রতারনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার স্থায়ী ঠিকানা চাঁদপুর মতলব উত্তরে।
তবে ভুক্তভোগী রাজীব চন্দ্র মজুমদার তার (হানিফ আলীর )কথামতো কাজ না করায় তাকে টাকা ফেরৎ দিচ্ছেনা। তিনি আরো বলেন, তিনি কোম্পানির কাছ থেকে টাকা পাওয়ার বিষয়ে কোনো প্রকার সাহায্য সহযোগিতাও করতে পারবেন না বলে স্রাফ জানিয়ে দেন। এছাড়াও ম্যানেজার হানিফ আলী বলেন, উকিল নোটিশ যেহেতু দিয়েছে, সেহেতু কোর্টে মামলা করে তাকে তার টাকা উঠিয়ে নিতে বলেন। এই বিষয়ে কোনো সহযোগিতা করা যাবেনা বলে তিনি জানান।যদিও জানা গেছে তিনি চাঁদপুর সদরে অবস্থান করছেন বর্তমানে। কিন্তু তিনিও সম্পূর্ণ ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন এখনো।
শত শত গ্রাহককে ঋন দেওয়ার নাম করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ঋন জালিয়াতির অভিযোগে হানিফ আলীকে উকিল নোটিশ দিয়েছিলেন রাজীব চন্দ্র মজুমদার। কিন্তু এতেও কোনো কর্ণপাত করেনি ম্যানেজার হানিফ আলী।
প্রতারনার স্বীকার হওয়া গ্রাহক রাজীব চন্দ্র মজুমদার, পিতা- ননী গোপাল মজুমদার, মাতা- পুস্প রানী, গ্রাম- চর মান্দারী,(অনিল মাস্টার বাড়ি) ৫নং ওয়ার্ড, ১৬নং রুপসা দক্ষিন ইউপি, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর সাংবাদিককে জানান, তিনি ব্যাবসার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানে লোনের জন্য আবেদন করলে তাকে বলা হয় মোট লোনের ৩০% অগ্রিম পেমেন্ট করলেই লোন দিয়ে দেওয়া হবে।
সে অনুযায়ী রাজীব চন্দ্র মজুমদার ৩০লাখ টাকার লোন আবেদন করেন। বিনিময়ে কোম্পানির প্রতিনিধি শাখা ম্যানেজার মোঃ হানিফ আলী লোন দেওয়ার শর্তে ঋণ গ্রহিতা রাজীব চন্দ্র মজুমদার এর কাছ থেকে অগ্রিম ৩০লাখ টাকার ৩০% ৩লক্ষ টাকা জামানত প্রদান সহ ৫০টি স্বাক্ষরিত চেকের পাতা প্রদান করেন ও তার কাছ থেকে নেওয়া হয়।
যাহার চেক নাম্বার- ২০৪ নং- ১৪৭৯১০১-৪৯ প্রাইম ব্যাংক লিঃ। এছাড়াও জামিনদার হিসেবে রাজীব চন্দ্র মজুমদার এর স্ত্রী কর্তৃক স্বাক্ষরিত পদ্মা ব্যাংক লিঃ এর এসবি- ৩৪৮২৯০১ অন্য আরো একটি চেক নিয়ে নেয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে গত ২৮এপ্রিল-২৪ তারিখে ৩শ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি চুক্তি সম্পাদন হয়।
চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর থেকে ৩মাসের মধ্যে রাজীব মজুমদার কে ৩০লাখ টাকার ঋন প্রদান করবেন নিউ স্ট্যান্ডার্ড ফাইনান্স এন্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কতৃপক্ষ। কিন্তু দেখা যায় যে, গত ২৫আগস্ট-২৪ তারিখে আজমেরী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল যমুনা ব্যাংক লিঃ এর হিসাব নাম্বার- ১০০১০০১৩৯৫৬৪৯ এর অনুকূলে ৩০লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। যাহার চেক নাম্বার- JCAC no- ৫১৬৩৫৩২। কিন্তু সেখানে তাদের দেওয়া চেকটি সম্পূর্ণ খালি।
অর্থাৎ এই চেকের অনুকূলে তারা রাজীব চন্দ্র মজুমদার কে কোনো টাকা প্রদান করেন নি। পরবর্তীতে গ্রাহক রাজীব চন্দ্র মজুমদার তাদেরকে বিষয়টি অবগত করলে তারা আজ না কাল , কাল না পরশু এভাবে করে দেই দিচ্ছি, দিবো বলে দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত উল্লেখিত চেক বা টাকা গ্রাহক রাজীব চন্দ্র মজুমদার কে তারা ফেরত দেয়নি।
পরবর্তীতে গত ২৯অক্টোবর-২৪ তারিখে দ্বিতীয় পক্ষ নিউ স্ট্যান্ডার্ড ফাইনান্স এন্ড কমার্স মাল্টিপারপাস এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মোবারক হোসেন, পিতা আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, মাতা সালেহা বেগম এর এল মল্লিক কমপ্লেক্স, ৮ম তলা, পুরাতান পল্টন, ঢাকা- ১০০০ এবং শাখা ম্যানেজার মোঃ হানিফ আলীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে তাকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়।
শাখা ম্যানেজার মোঃ হানিফ আলী এবং নিউ স্ট্যান্ডার্ড ফাইনান্স এন্ড কমার্স মাল্টিপারপাস এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মোবারক হোসেন এর ঋন জালিয়াতির খপ্পরে বহু গ্রাহক ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী হয়েছেন। তাই এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রসাশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন গ্রাহকরা।