শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি বলেছেন, সরকার, আওয়ামী লীগ ও জনগণের কাছে যা গ্রহণযোগ্য নয়, অর্থাৎ সরকার ও জনগণ যার বিরুদ্ধে সব সময় অবস্থান নেবে, তিনি যদি দলের কিংবা সরকারের হন, তাকে সেখান থেকে অপসারণ করা হবে।
বুধবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর মুক্ত দিবস ও মাসব্যাপি মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীত ও পতাকা তুলে বিজয়মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা। পরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে যা কিছু গ্রহণযোগ্য নয়, তা আওয়ামী লীগের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ কেউ বিভিন্ন আচরণ কিংবা কথার মাধ্যমে নিজেদের বিতর্কিত করছেন। এর মধ্যে অনেকেই সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। খুবই দুঃখজনক, এটি আমাদের কাম্য নয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের দল, শেখ হাসিনা সরকার জনগণের সরকার।
মন্ত্রী বলেন, যখন আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে কাজ করেছি, তখনই দেশ এগিয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২১ বছর, আর বাকী ২৮ বছর স্বাধীনতা বিরোধী, স্বৈরাচারী, সামরিক ও আধাসামরিক সরকার দেশ পরিচালনা করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সমেয় মানুষ তাদের খাদ্যের অধিকার পেয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎসহ এমন কোন ক্ষেত্রে নেই যেখানে উন্নয়ন হয় নাই। প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিস্ময়কর উন্নয়নের পথে এগিয়েছে। সারা বিশ্বে বিস্মিত হয়ে দেখছে কি করে বাংলাদেশ এত উন্নতি করছে। অথচ বাকী ২৮ বছর আমাদের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সব জায়গা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং অপমানিত করা হয়েছে। ওই সময় যুদ্ধাপরাধীদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়া হয়েছে। তাদেরকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠত করা হয়েছে, অর্থাৎ তাদেরকে সম্মানিত করা হয়েছে।
দীপু মনি বলেন, কেউ কেউ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আপনারা দেখেছেন বিপুল পরিমান মানুষ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং ভোট দিয়েছে। আমাদের গণতান্ত্রিক পক্রিয়া চালু আছে। পৃথিবীর কোন দেশেই গণতান্ত্রিক পক্রিয়া নিখুত নয়। চলতে চলতে যত ভুলত্রুটি থাকে তা ঠিক করে নিতে হয়। আমাদের যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো দুর করতে করতে এগিয়ে যাব। আমাদের অতীতের সকল জঞ্জাল দুর করছেন শেখ হাসিনা। তিনি যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করছেন এবং দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। দেশ এখন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম এ ওয়াদুদ, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মঈনুল হাসান, মেলা উদযাপন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মহসিন পাঠান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ইয়াকুব আলী মাস্টার, বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের মহাসচিব হারুন আল রশিদ ।