চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রমের একাধিক কক্ষ ঘুরে দেখা যায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ইতিবাচক চিত্র।
সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, গেটেই সবাইকে তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে, হ্যান্ড স্যানেটাইজার দেওয়া হচ্ছে প্রত্যেকের হাতে হাতে। এবং হাত ধৌত করার জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক সবাই মাস্ক পড়ে ক্লাসে এসেছেন। এবং দূরত্ব বজায় রেখে বেঞ্চ সাজানো হয়েছে। বিদ্যালয়ে এ দিন শতকরা ৮৫ ভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নবম দিনে স্কুলটিতে গিয়ে দেখা গেছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলে প্রবেশ করছে। পথে পথে মেয়েরা স্কুলের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাচ্ছে। কেউ সহপাঠীদের সাথে দল বেঁধে। কেউবা একাকী। তাদের পরনে স্কুলে পোশাক ও পিঠে ব্যাগ। এসময় তাদের চেহারায় ছিল খুশির ঝিলিক। তাদের মাঝে প্রাণচাঞ্চাল্য দেখা গেছে। শ্রেণিকক্ষে প্রতিটি বেঞ্চে দুইজন করে বসতে দেখা গেছে।
দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরতে পেরে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসিত বলে জানান কয়েকজন শিক্ষার্থী। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ক্লাসে বসতে পেরে জানিয়েছে সুখকর অনুভূতির কথা। স্কুলে আসতে পেরে খুবই ভাল লাগছে। সবার সাথে সবার দেখা হচ্ছে। করোনা কালীন সময় বাড়িতে বসে থাকতে থাকতে হাপিয়ে উঠেছিলাম। পাশাপাশি লেখাপড়া পিছিয়ে পড়ার যে ক্ষতি হয়েছে তা থেকে এ যাত্রায় রক্ষা পাওয়া গেল। এভাবে নিয়ম মেনে ক্লাস না হলে তাদের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া যাবে বলে মন্তব্য করে কয়েকজন শিক্ষার্থী।
শিক্ষকরা বলছেন, মহামারি পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফিরছেন তারা। ক্লাসে ফেরার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমিতা, হতাশা আস্তে আস্তে কেটে যাবে। সরকারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান তারা।
দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনসুর আহাম্মদ, বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা। সরকারি সকল সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে সকল ধরনের ব্যবস্থা রেখেছি। মাস্ক বাধ্যতামুলক ও দুরত্ব বজায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। আমি দোয়া করি মহান আল্লাহ তায়ালা যাতে আমাদের সকলকে সুস্থ ও করোনা থেকে মুক্ত রাখেন।