বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর সাবেক চেয়ারম্যান ও কমিশনারসহ ছয়জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারের ৯ হাজার ১০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুদক প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের করা মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিটিআরসি’র সাবেক চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, ড. শাহজাহান মাহমুদ, সাবেক কমিশনার ও পরে চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, সাবেক কমিশনার মো. রেজাউল কাদের এবং মো. আমিনুল হাসান।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে এ কর্মকর্তারা সরকারের অনুমোদন ছাড়াই আন্তর্জাতিক গেটওয়ে অপারেটরদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে নির্ধারিত কল টার্মিনেশন রেট এবং রেভিনিউ শেয়ারিং কাঠামো বেআইনিভাবে বহাল রাখেন। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১5 সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষামূলক রেট ছিল প্রতি মিনিটে ০.০৩ মার্কিন ডলার। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আইন উপেক্ষা করে এটি কমিয়ে ০.০১৫ মার্কিন ডলার রেটে আরও ২৮ মাস চালু রাখেন। একইভাবে সরকারের রেভিনিউ শেয়ারিংও ৫১.৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।
দুদক বলছে, এ বেআইনি সিদ্ধান্তের কারণে তিন দফায় সরকারের মোট ক্ষতি হয়েছে ৯ হাজার ১০ কোটি ৭৪ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫ টাকা। এর মধ্যে রেভিনিউ শেয়ারিং কমিয়ে দেওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৩৮৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, কম রেটে টার্মিনেশন রেট চালু রাখায় ক্ষতি ২ হাজার ৯৪১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং নির্ধারিত হারের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে না আনায় ক্ষতি হয় ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং অন্যদের আর্থিক সুবিধা দিতে সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪১৮ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে।