চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পাড়া-মহল্লায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ( কোভিড ১৯) করোনাকালীন সময়ে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার কারণে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বাল্যবিবাহের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর জন্য বিশেষ করে দায়ি মা বাবাই।
করোনাকালে দারিদ্রতা বৃদ্ধি ও পরিবারের সদস্যদের মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা করতে না পারার বিষয়কে বাল্যবিবাহের বড় কারন। আয় হারিয়ে দারিদ্র বৃদ্ধি বিদ্যমান ,সামাজিক নিয়ম বিশ্বাস স্কুল-কলেজ বন্ধ।বাল্য বিবাহের মাধ্যমে অভিভাবকদের কিছু সুবিধা পাওয়ার আশা ও কম পরিমাণ যৌতক দেওয়ার সম্ভাবনা। করোনাকালে বাল্য বিবাহের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বাল্য বিবাহ দিয়ে মা-বাবা মনে করেন সমস্যা শেষ। কিন্তু পরে তা আরো বড় সমস্যা হয়ে ফিরে আসে।
একটি সুস্থ জাতি পেতে প্রয়োজন একজন শিক্ষিত মা ,বলেছিলেন প্রখ্যাত মনীষী ও দার্শনিক নেপোলিয়ন বোনাপার্ট। আজ এই একুশ শতকে এসে ও বাংলাদেশের অধিকাংশ মেয়ে এখনো শিক্ষা থেকে বঞ্চিত যার প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ। আগামী প্রজন্ম সুস্থভাবে বেড়ে উঠা এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠাও বাল্যবিবাহ একটি বড় বাধা। যেসকল অভিভাবক গন বাল্যবিবাহ দিতে ইচ্ছুক তারা যে কোন উপায়ে জন্ম নিবন্ধনে মেয়ের বয়স টাকার বিনিময়ে বৃদ্ধি করে নেয় ।এর ফলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়। পরে আবার দেখা যায় কোট এফিডেভিটের মাধ্যমে ও বিবাহ সম্পন্ন করে থাকে।
বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে কিছু অসাধু কাজীও অনেকটা দায়ী থাকে ।এরা মেয়ের বয়স বৃদ্ধি দেখিয়ে বিয়ে দিতে বর এবং কনে পক্ষকে সহায়তা করে ।আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় মেয়ের বাবার অর্থনৈতিক অবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাল্যবিবাহে উৎসাহিত করে ছেলেদের পরিবার।
কখনো কখনো তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকেও বাল্যবিবাহের দিকে ঝুঁকে পড়ে গ্রাম্য পরিবারগুলো। নারী শিক্ষার অগ্রগতি বৃহৎ হওয়া ছাড়াও বাল্যবিবাহের কারণে মাতৃ মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে ,মা হতে গিয়ে প্রতিনিয়তই একজন মা মারা যাচ্ছে, মারা যাচ্ছে একজন নবজাতক ।নবজাতক বেঁচে থাকলেও অনেক সময় তাকে নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।
দেখা যায় বাল্যবিবাহের ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের আশঙ্কা তৈরি হওয়া ছাড়াও নানা পারিবারিক অশান্তি দেখা দেয়। বাল্যবিবাহ ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না পারিবারিক সামাজিক এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধনও সহায়ক হয়। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে স্বামীর সংসার শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কে বুঝে উঠার আগেই সংসার এবং পরিবারের বারে আক্রান্ত হয়। সমাজে বাল্যবিবাহ হু হু করে বাড়ছে।
কিশোর কিশোরীরা জানেইনা বাল্যবিবাহের ফলে তারা কি এক কঠিন অনিশ্চিত অধিকার বঞ্চিত ভবিষ্যতের দিকে নিজেদের ঠেলে দিচ্ছে। অভিভাবকরা বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে যথাযথ ভাবে অবহিত নন। সমাজকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করার লক্ষ্যেকে সামনে রেখে আসুন আমরা সকলে মিলে সমাজকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাই এবং শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করে সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলি।