ফরিদগঞ্জে মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরিহ পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী চালিয়ে হাত ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। জরুরীসেবায় কল পেয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। আদালতে ও সংশ্লিষ্ট থানায় বিচার প্রার্থনা করছে ভুক্তভোগীরা। এই ঘটনায় ওই সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে নিজের বসতঘরে দিনপার করছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদেরও তোয়াক্কা করছেনা অভিযুক্তরা। উপজেলার ৭নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের তপদার বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী তপদারের ছেলে টিটু (২৫) হুমায়ুন (৩৮) মোহসীন (৩৪) ও মিরাজ (২১) গংরা স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে এলাকাটিতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছে। তাদের বাঁধাদিতে গিয়ে কখনো পড়তে হয় নিরিহ মানুষকে সাজানো মামলার রোষানলে আবার কখনো হতে হয় হামলার শিকার। তেমনি হামলার শিকার হয়েছেন তাদের এলাকার নিরিহ বাসিন্দা আবুল কালাম শুক্কুর গং। জানা যায়, আবুল কালাম শুক্কুর গংদের ফলজ বাগানে টিটু গংরা মাদক সেবন করার সময় তাদের বাঁধা দেয় আবুল কালাম শুক্কুর গং। সে বাঁধাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগীদের বাড়ীর পাশে একা পেয়ে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা শুক্কুরের ওপর ভয়ানক হামলা চালায়, এসময় শুক্কুরের একটি হাত ভেঙ্গে যায়, এছাড়াও মাথাসহ শরীরের বেশ কয়েক স্থানে মারাত্বক যখম প্রাপ্ত হয়। শুক্কুরের ডাক-চিৎসার শুনে তার স্ত্রী শান্তা বেগম বাড়ী থেকে স্বামীকে বাচাঁতে এসে সেও সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়। এসময় অভিযুক্তরা শুক্কুর গংদের ওপর শুধু হামলা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি, ভুক্তভোগীদের বাড়ীতে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে তাদের ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে তারা । এসময় আতঙ্কে স্থানীয়রা ভুক্তভোগীদের বাচাঁতে এগিয়ে না আসলেও ৯৯৯ এ কলদেয়। পরে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী আবুল কালাম শুক্কুর বলেন, টিটু গংরা মাদক সেবন করার সময় আমি বাঁধা দেই, বিকেলে আমাকে বাড়ীর পাশে একাপেয়ে আমারর ওপর হামলা চালিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়। এসময় আমার স্ত্রী শান্তা বেগমকেও পিটিয়েছে তারা। এর কয়েকদিন পূর্বে টিটু গংরা অন্য এক লোকের মাথার ব্যান্ডিজ করা ছবি দেখিয়ে আমার ভাইকে একটি মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। আমি চাই প্রশাসন স্বশরীরে ভিক্টিমের শরীরসহ ওই মিথ্যা মামলার তদন্ত করে অপরাধীদের বিচার করুক।এদিকে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলী আক্কাছ ভূঁইয়া জানান, অভিযুক্তরা ওই এলাকাতে সন্ত্রাস করে বেড়ায়, তারা এলাকাটিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা একবার মিথ্যা একটি নাটক সাজিয়ে নিরআপদ একজনকে হয়রানি করেছে। তারা কাউকে মানেনা, প্রশাসন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসুক।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ শহীদ হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে, অপরাধীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।