বগুড়ার নন্দীগ্রামে পুলিশের সোর্স সন্দেহে নিরীহ যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর সহ মারাত্বক জখম করেছে মাদক কারবারিবা। উপজেলার ৫নং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের গোছাইল গ্রামে, ১১ই মার্চ বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গোছাইল গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের রমরমা ব্যাবসা চালিয়ে আসছে গ্রামের কতিপয় কয়েক জন যুবক।
গত বৃহস্পতিবার (৪ই মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে এদের মধ্যে, গোছাইল গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে মাদক ব্যাবসায়ী আফজাল হোসেন (৩৬), মৃত সোবহান আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৪৬), জলিল এর ছেলে মামুন (২৮) কে মাদক সহ গ্রেফতার করে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। উক্ত আসামীরা জেল থেকে বের হয়ে এসে এলাকার সকল মাদক কারবারিরা একত্র হয়ে সেদিনের গ্রেফতারের ঘটনায় পুলিশের সোর্স সন্দেহে গোছাইল গ্রামের মকবুলের ছেলে নাজমুল হোসেন (৩০) কে মোবাইলে ফোন করে গোছাইল ৩ মাথায় ডেকে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে অমানবিক মারধর শুরু করে গোছাইল গ্রামের হাফিজারের ছেলে বুলবুল, মৃত সোবহানের ছেলে সালাম, সালামের ছেলে জাহাঙ্গীর, জলিলের ছেলে মামুন, আবেদ উদ্দিনের ছেলে আফজাল ও আতাইল চেঙ্গা পাঁচ পুকুরিয়া গ্রামের আজিজের ছেলে মিজান। তারা সকলেই এলাকার নামকরা মাদক ব্যাবসায়ী। এক সময় তাকে মোটর সাইকেল যোগে অপহরনের চেষ্টা করলে গ্রামবাসীর তোপের মুখে মাদক কারবারিরা দ্রত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে তাকে মূমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেয় গ্রামবাসী।
এ বিষয়ে গ্রামবাসী জানান, পুলিশের সোর্স সন্দেহে মাদক কারবারিরা এই ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যেই মারধর করে মারাত্বক জখম করেছে। গ্রামবাসী না থাকলে তারা ছেলেটিকে মেরেই ফেলতো। তারা দীর্ঘদিন এলাকায় মাদক ব্যাবসা সহ নানান অপকর্ম করে আসছে। বর্তমানেও এদের মধ্যে বুলবুল, সালাম, আফজালের বিরুদ্ধে, ২০১৪ সাল থেকে কিডন্যাপ, অপহরণ, ও চাঁদাবাজীর মামলায় ওয়ারেন্ট জারি রয়েছে, এর পরেও তারা গ্রেফতার হয়না।
এ বিষয়ে প্রানে বেঁচে যাওয়া আহত চিকিৎসাধীন যুবক নাজমুল হোসেন জানান, আমার মোবাইলে ফোন দিয়ে মাদকের ডিলার বুলবুল আমাকে ৩ মাথায় আসতে বলে। আমি ৩ মাথায় গিয়ে দারিয়ে ছিলাম হঠাৎ সেখানে ২ মটর সাইকেল যোগে উক্ত ৬জন মাদক ব্যাবসায়ী এসে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর শুরু করে এবং আমাকে অপহরনের চেষ্টা করলে গ্রামবাসীর তোপের মুখে আমাকে রেখে পালিয়ে যায়।
উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ দিলরুবার সাথে কথা বললে তিনি জানান, ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন করেছে, মাথার আঘাতের বিষয়ে সিটিস্ক্যান করতে হবে, এছাড়াও এক পা মারাত্তক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার ডিউটি অফিসার রেজাউল করিম রেজা জানান, পুলিশ উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন যুবক নাজমুল হোসেন সাথে দেখা করেছে এবং তার পরিবারের সাথে কথা বলেছে। উক্ত ঘটনার সাথে জরিত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।