মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন পার্লামেন্ট অফ ওয়ার্ল্ড সুফীজ প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আলহাসানী (মাজিআ) বলেছেন, ইসলামের হাজার বছরের ইতিহাসে অনেক তরিক্বা প্রচলিত হয়েছে। তন্মধ্যে উনিশ শতকে বাংলার ভূখণ্ডে ‘তরিক্বা-এ- মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রবর্তন হয়েছে।
১৮২৬ সালে, ১লা মাঘ, ১২৩৩ বঙ্গাব্দে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন,গাউসুল আযম হযরত মওলানা শাহ্সুফি সাইয়্যিদ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী ।যেহেতু তিনি মাইজভাণ্ডার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, তার নামের সাথে এবং তার প্রবর্তিত তরিক্বার নামের সাথে ‘মাইজভাণ্ডারী’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে।
সাইয়্যিদ আহমদ উল্লাহ ফটিকছড়ির একটি মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায়(বর্তমানে বিশ্ব বিদ্যালয়) ভর্তি হন। সেখানে ১৮৫১ সালে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরে অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলায় বিচার বিভাগে ‘ক্বাজি-উল-কুজ্জাত’ পদে যোগদান করেন।
তিনি বিচারকের চাকরি ছেড়ে ১৮৫৩ সনে কলকাতার মুন্সী বু আলি কলন্দর মাদ্রাসার ‘প্রধান মুদাররিস’ পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার ‘প্রিন্সিপাল’ পদে যোগদান করেন। শিক্ষকতা পেশা পালনের সময় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ উল্লাহ (ক) সে সময়ের বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত আবু শাহমা মুহাম্মদ সালেহ্ লাহোরি (কঃ) নিকট বায়াত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে হযরত সাইয়্যিদ দেলোয়ার আলী পাকবাজ (কঃ) সান্নিধ্যে গিয়ে আধ্যাত্নিক জ্ঞানকে আরো সমৃদ্ধ করতে সমর্থ হন। এভাবেই তিনি জগদ্বিখ্যাত দুজন অলিয়ে কামেলের সাহচর্য লাভ করেন।
১৮৫৮ সালে মাইজভাণ্ডার গ্রামে ফিরে আসেন। তার মায়ের প্রবল ইচ্ছায় তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মাইজভাণ্ডার শরীফ থেকেই তিনি ‘তরিক্বা-এ- মাইজভাণ্ডারীয়া’ প্রচার করতে থাকেন।
১৯০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি, ১৩১৩ বঙ্গাব্দের ১০ই মাঘ গাউসুল আযম হযরত মওলানা শাহ্সুফি সাইয়্যিদ আহমদউল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক) ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী থেকে পর্দা করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন করেন।