দুর্নীতি দমন কমিশনের এই মামলায় ওয়ান ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার এমরান হোসেন সোমবার আদালতে হাজির হয়ে আগাম জামিনের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে তা নাকচ করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের বেঞ্চ তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ মামলায় এমরানের মা পেশোয়ারা বেগম ও ওয়ান ব্যাংকের গ্রাহক রাকিবা জাহানের আবেদন নিষ্পত্তি করে তাদের তিন সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতে এমরান ও পেশোয়ারা বেগমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল; রাকিবা জাহানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল ইসলাম।
দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
আইনজীবী কামরুল ইসলাম বলেন, এমরান ও তার মা পেশোয়ারার আবেদনটি সরাসরি খারিজ করেছে। আর রাকিবা জাহানের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে আদেশ দিয়েছেন আদালত। নারী দুজনকে তিন সপ্তাহের মধ্যে মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।”
প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে চারটি বীমা কোম্পানির প্রায় সাড়ে ১১ কোটি আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ওয়ান ব্যাংকের সাত কর্মকর্তাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
আইনজীবী আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, “আসামি এমরান হোসেনকে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে হস্তান্তর করে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে।”
গত ১৫ ডিসেম্বর কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ করা মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা ২০১৯ সালের ৫ মার্চ থেকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ‘পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে’ চারটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ভিন্ন ভিন্ন হিসাবসহ অন্যান্য ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান শাখার ব্যাংক হিসাবে ‘অবৈধভাবে’ ১১ কোটি ৪০ লাখ ২৩ হাজার ৯২১ টাকা স্থানান্তর করে।
পরে ওই অর্থ বিভিন্ন কৌশলে উত্তোলন করে আসামিরা ‘আত্মসাৎ ও পাচার’ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
চারটি বীমা কোম্পানি হল- পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্রভাতি ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্রেস ইনস্যুরেন্স লিমিটেড ও সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউল আলম, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট বিমলেন্দু চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড রিলেশনশিপ ম্যানেজার মুনতাসির রহমান সিদ্দিকী, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আদিল, জুনিয়র অফিসার মো. শামিম, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আবু কালাম মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন এবং ব্যাংকের গ্রাহক আজিজুর রহমান, তানভীর হোসেন ও সুবু তারা হাওলাদার।