চাঁদপুরের আলোচিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনা যেন দিন দিন আরো দীর্ঘ হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই যেন আলোচনার বাইরে আসছেনা। যখনই একটু ঘুরে দাঁড়াবে,তখনি এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে শুরু হয় নানান আলোচনা ও সমালোচনা। তবে এবারের বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন।
মঙ্গলবার(২৮ জানুয়ারি) চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাড়ির মালিক জাকির হোসেন জানান, চাঁবিপ্রবি বাড়ি ভাড়া বাবদ তাঁর লোকসান গুনতে হচ্ছে তিন ফ্লোরে মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
তিনি আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতেই কর্তৃপক্ষের সাথে একটি দি- পাক্ষিক চুক্তি হয়। চুক্তিটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় কাজ ব্যাতিত অন্য কাউকে এই ভবনে ভাড়া দেওয়া যাবে না।
সেই অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম ভালোই চলে আসছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের ঘটনার পর সকল দপ্তরেই শিক্ষক থেকে ভিসি অনেকরই পালাবদল হয়েছে। তেমনি চাঁবিপ্রবিতেও যখন নতুন ভিসি ড. পেয়ার আহমেদ আসেন, তখন তাকে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বাড়ির মালিক জাকির হোসেন অবগত করেন।
বাড়ি ভাড়ার বিষয়, বাড়ির উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সংক্রান্ত পূর্বের থাকা বকেয়া বিল এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে ভিসি ড. পেয়ার আহমেদ তাঁকে বলেন, আমি এই বিষয়ে অবগত নই। আমি এগুলো জানিনা, তাই আমি কিছু্ই বলতে পারছিনা পূর্বের কোনো বিষয় নিয়ে।
এরপর জাকির হোসেন যান রেজিস্ট্রার এর নিকট। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা- বলেন, আপনি ডকুমেন্ট দেখালে তারপর আমি বিষয়টি দেখতেছি।
এই বলে এড়িয়ে যাওয়ার পর, বাড়ির মালিক জাকির হোসেন বলেন,আমি একজন প্রবাসী । আমি আমার নিজের কষ্টার্জিত জমানো অর্থ দিয়ে আমি শিক্ষার্থীদের জন্যে বাড়ির সৌন্দর্য্য করার জন্য রঙের কাজ করিয়েছি, টয়লেটে স্যানেটারি থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক সকল কাজ আপডেট করিয়েছি। এছাড়াও টাইলস থেকে শুরু করে যা যা বাকি ছিল এবং আমাকে বলা হয়েছে করার জন্য, শিক্ষার্থীদের একটা সুন্দর পরিবেশ দিতে আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তাহলে কি আমি ভূল করেছি নাকি। যেখানে সামনে সরাসরি কাজ করেছি,সেখানে কি ডুকুমেন্ট দেখাবো আর।
তিনি আরো বলেন, আমার বর্তমান তিনটি ফ্লোর প্রায় ৬ হাজার স্কায়ার ফিট খালি পড়ে আছে আজ দু’বছর অব্দি। আমাকে বলা হয়েছিল উপরে কাজ করতে, তাই আমি ভবনের কাজ করেছি। এখন তারা আমার তিন ফ্লোর ভাড়া না নিয়ে, পাশের ভবনটি ভাড়া নিয়েছে, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে, ডিড ডকুমেন্টে উল্লেখ রয়েছে যে, চুক্তির মেয়াদ থাকাকালীন চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কাউকে বাড়া দেওয়া যাবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এই ভবনটি ছাড়া অন্য কোথাও মেয়াদের পূর্বে ভাড়া নিতে পারবেন না। কিন্তু কে রাখে কার কথা।
জাকির হোসেন বলেন, আমার ভবনের কাজ আমাকে করতে বলায় আমি করিয়েছি। নয়তো আমি আরো পরে কাজ করতাম আমার সুবিধা মতো, প্রয়োজন অনুযায়ী। আমি পৌরসভার কর দিচ্ছি, ভ্যাট টেক্স দিচ্ছি বাড়ির। শুধু শুধু আমার অতিরিক্ত বিল-পে করা লাগতেছে। এটার জরিমানা কে দিবে। এখন তো আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।
আমি আমার ক্ষতিপূরণ চাই বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের নিকট। আমি এই মূহুর্তে বিভিন্ন সমিতি, কোম্পানির অফিস এবং এনজিও অফিস নিতে আসলেও আমি তাদেরকে ভাড়া দিতে পারছিনা। এখানে আমি কাজ করানো ভূল ছিল, নাকি বিশ্ববিদ্যালয় আমার দিকে বিশেষ বিবেচনায় তাকালে আমার ক্ষতিটা পুষিয়ে যায়, সেটাই লক্ষনীয়।
এছাড়াও তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে এবং কিছুদিন আগে বিভিন্ন গনমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একটি নিউজ হয়। যেখানে উল্লেখ রয়েছে যে, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাড়িটি একটি কিন্ডারগার্টেনের জন্যও প্রযোজ্য নয়। এছাড়াও সেখানে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাবার ক্যান্টিন নেই, আবাসিক থাকার হল নেই, স্থায়ী ভবন ও খেলার মাঠ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ভালো মানের ল্যাব নেই, পর্যাপ্ত জায়গা এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় অনেক উপকরণ না থাকার বিষয়টিও উঠে আসে বিভিন্ন সময়ের নিউজ গুলোতে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে এসে জানা গেছে, ভিসি ড. পেয়ার আহমেদ তাঁর নিজের অফিস কক্ষটি ডেকোরেশন করাচ্ছেন ১৪/১৫ লাখ টাকা ব্যায় করে। অথচ শিক্ষার্থীদের একটি লিফট ছিল খুবই জরুরি। একটি কমন রুম, খেলাধুলা করার জন্য আপাতত ইন্ডোরে কিছুটা হলেও ব্যাবস্থা করা যেতো এই ফ্লোরগুলো নেওয়া হলে। অথচ তিনটি ফ্লোর খালি, মাসিক ব্যায় গুনতে হচ্ছে বাড়িওয়ালাকে। ১৫ লাখ টাকা ব্যায় করে করা হচ্ছে ভিসির রুম ডেকোরেশন কিন্তু শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মানোন্নয়নে কাজ করা আগে দরকার, নাকি ভিসির রুমের ডেকোরেশন আগে দরকার। এমনটাই প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনটি একটি কিন্ডারগার্টেনের জন্যও প্রযোজ্য নয়, সেখানে কি দরকার এতো গুলো অর্থ প্রায় ১৪/১৫ লাখ টাকা ব্যায় করে এই মূহুর্তে রুমের ডেকোরেশন করা। সেই তুলনায় এটি অনর্থক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।