শিরোনাম
ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী পাগলা মসজিদের স্বর্ণ-রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা নিলামে বিক্রির কার্যক্রম শুরু সুদান-মিশর সীমান্তে বিমান হামলায় ৭২ স্বর্ণখনিশ্রমিক নিহতের দাবি ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা ব্যবসায়ীদের পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, প্রথম ভোট ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশি, আহত ২৪ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৫–২৯ অক্টোবরের মধ্যে চাঁদপুরজুড়ে অনুমোদনহীন বেকারির ছড়াছড়ি: জনস্বাস্থ্যের জন্য নীরব হুমকি আইপিইউ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আটলান্টিক মহাসাগরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, নিহত ৬ চলতি অর্থবছরে দেশে বসছে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন মাদক থেকে তরুণদের রক্ষায় সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, আজ রাত থেকেই কার্যকর দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৬০
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

দর্পণ ডেস্ক / ১১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ২০২৬ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।

মতবিনিময় সভায় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতারা। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা নিজেরাই বলেছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।”

দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন।

একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।”

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।”

নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, “একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।”

প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য নিশ্চিত করতে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না বলে তাঁদের বক্তব্য। বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি—সরকার গঠনের পর বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।

এ সময় সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন নেতারা।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ