কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে জমা হওয়া স্বর্ণ-রূপার অলঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা নিলামে বিক্রির লক্ষ্যে গণনা, ওজন নির্ধারণ ও মূল্যায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সর্বশেষ গণনার ছয় বছর পর এসব অলঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ৯টি মাঝারি আকারের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালাকৃত খাম খুলে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিখানা থেকে স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারগুলো কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনা হয়।
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের নেতৃত্বে অলঙ্কার গণনা ও নিলামে বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ।
স্বর্ণ-রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা এবং ওজন নির্ধারণের কাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন এসআরবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছয়জন কর্মচারী, মসজিদের কর্মচারী, জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারগুলোর ওজন নির্ধারণের পর বাজারমূল্য মূল্যায়ন করা হবে। পরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিলামে এসব অলঙ্কার বিক্রি করা হবে।
অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রাগুলো দেশভিত্তিক পৃথক করা হবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী সেগুলো নগদায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলার পর পাওয়া নগদ অর্থ রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়। স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারগুলো সিলগালা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১১ মার্চ সর্বশেষ নিলামে পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে জমা হওয়া ৪২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৮ ভরি রুপার অলঙ্কার ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। তখনকার নিলামে প্রায় তিন বছর ধরে জমা হওয়া এসব অলঙ্কার বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ৭০ লাখ টাকা।
২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ বার মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ জুন দানবাক্স খোলা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। এ ছাড়া মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে এ পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
স্বর্ণ-রূপার অলঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা নিলামে বিক্রির কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এসব সম্পদ থেকে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদের তহবিলে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।