খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগে ১০ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া আরও তিন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সোমবার জানিয়েছেন কুয়েট ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব ও পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) অধ্যাপক মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপন করা হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ। সভায় ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির ১১ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, আজীবন বহিষ্কৃতদের মধ্যে অনেকেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।
আজীবন বহিষ্কৃতরা হলেন কুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান, রায়হান আহমেদ, সাদ আহমেদ, সাজেদুল কবির, আদনান রাফি, রিজুয়ান ইসলাম রিজভী, ফায়াদুজ্জামান ফাহিম, মেহেদী হাসান মিঠু, সাফাত মোর্শেদ, ফখরুল ইসলাম। এর মধ্যে রায়হান, সাদ, সাজেদুল ও রাফির বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ বাতিল করা হয়েছে। তারা সবাই কুয়েট ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন।
এ ছাড়া লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোস্তাক আহমেদ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শুভেন্দু দাস ও ফারিয়ার জামিলকে চিরতরে প্রংশসাপত্র না দেওয়া এবং বিভিন্ন মেয়াদের জন্য সনদ প্রদান না করার শাস্তি দেওয়া হয়।
ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটি ওই সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কুয়েটের এস এ রশীদ হলে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমানকে শারীরিক ও মানসিকভাকে নির্যাতন করেন কিছু শিক্ষার্থী।
২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ২৭ জানুয়ারির ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে।
তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালেচনা শেষে ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত ১৩ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে কুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান দাবি করেন, তারা কেউই জাহিদুরকে মারধর করেননি। জাহিদুর হিজবুত তাহরিরের সদস্য, এ অভিযোগে কুয়েট কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তারা সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”