মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ২৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর রোমান শেখ (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী ও র্যাবের উপস্থিতিতে উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের ছয়গাঁও গ্রামের একটি পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। লাশটি সিমেন্টের খুঁটি বাঁধা অবস্থায় পানিতে ভেসে ওঠে।
সিরাজদীখানের কোলা ইউনিয়নের থৈরগাঁও গ্রামের মিরাজ শেখের ছেলে রোমান বেলতলী গঙ্গাপ্রসাদ জগন্নাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সে পড়াশোনার পাশাপাশি অটোরিকশা চালাত।
গত ২১ জানুয়ারি অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে রোমানের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২৫ জানুয়ারি তার বাবা তিনজনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেন। আসামিরা হলেন— মো. সিয়াম, মানিক শেখ ও মো. রাসেল। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করলেও রোমানের সন্ধান মিলছিল না। এর মধ্যে একজন আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গ্রামবাসী ও রোমানের সহপাঠীরা বিক্ষোভ শুরু করে। বুধবার সিরাজদীখান থানার সামনে তারা মানববন্ধন করে এবং অতর্কিত হামলা চালিয়ে থানায় ভাঙচুর করে। বিক্ষুব্ধরা প্রশাসনকে তিন দিনের মধ্যে রোমানের সন্ধান দিতে আলটিমেটাম দেয়।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে প্রধান আসামি সিয়ামের বাড়ির পাশের একটি পুকুরে বস্তাবন্দি লাশ ভাসতে দেখেন। পরিবারের সদস্যরা সেটি রোমানের বলে শনাক্ত করেন। এরপরই গ্রামবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা সিয়ামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গ্রামবাসীর দাবি, সিয়াম ও তার সহযোগীরা রোমানকে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে সিমেন্টের খুঁটি বেঁধে পুকুরে ফেলে দিয়েছিল।
সিরাজদীখান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ. ন. ম. ইমরান খান জানান, উত্তেজিত জনতার কারণে লাশ উদ্ধারে কিছুটা দেরি হয়। পরে সেনাবাহিনী ও র্যাবের সহায়তায় পুলিশ দুপুর ১টার দিকে লাশ উদ্ধার করে।
এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে এবং হত্যার কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।