উত্তরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে যমুনা রেলসেতু দিয়ে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। নতুন এই রেলসেতু উত্তরবঙ্গের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা ১২ মিনিটে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৫০ কিলোমিটার বেগে যমুনা রেলসেতু পেরিয়ে ঢাকার দিকে চলে যায়। একই দিন থেকে পুরাতন যমুনা সেতু দিয়ে আর যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এখন থেকে সব ট্রেন নতুন রেলসেতু দিয়েই চলবে।
প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি যমুনা রেলসেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে যোগাযোগ উপদেষ্টা ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। ওই দিন থেকেই সেতুর দুই লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
২০২০ সালের ৩ মার্চ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ২৯ নভেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০২১ সালের মার্চে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়। রেলসেতুর নির্মাণ বাস্তবায়ন করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠান ওটিজি ও আইএইচআই।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। তবে ২০০৮ সালে ফাটল দেখা দেওয়ায় ট্রেনের গতি সীমিত করে দেওয়া হয়, ফলে দৈনিক ৩৮টি ট্রেন মাত্র ২০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করত। এই সমস্যার সমাধানে ২০২০ সালে নতুন যমুনা রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাকের সুবিধাসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত হয়েছে।
প্রকল্পের শুরুতে সেতুর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু। তবে গত বছর অন্তবর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনের সময় সেতুর নাম পরিবর্তন করে যমুনা রেলসেতু রাখা হয়।
নতুন যমুনা রেলসেতুর ফলে দেশের রেল যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।