রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজ কেন্দ্র থেকে ছুটি আসা আনিসা নামের এক পরীক্ষার্থী দেরির কারণে প্রথম এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট পরে কেন্দ্র পৌঁছানোর কারণে নিয়ম অনুযায়ী তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
আনিসার পেছনে রয়েছে মানবিক কারণ—পরীক্ষার আগেই মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে ছুটতে হয়েছিল। মাকে রেখে পরীক্ষায় আসার পরও সময়মতো কেন্দ্র পৌঁছানো হয়নি। অনুরোধ সত্ত্বেও পরীক্ষার সুযোগ না পেয়ে কেন্দ্রের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়া তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন মহল থেকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বিষয়টি ‘বিশেষ বিবেচনা’র আওতায় দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন।
পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০ অনুসারে, পরীক্ষার শুরু থেকে ৩০ মিনিটের বেশি দেরি হলে কেন্দ্র প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, “মানবিক কারণে ব্যতিক্রম সম্ভব।”
যদি আনিসা দ্বিতীয়পত্রে ভালো ফলাফল করে, তবে দ্বিতীয়পত্রের ভিত্তিতেই পাস হিসেবে গণ্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে আলাদাভাবে পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ বিবেচনা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মের ঊর্ধ্বে যাওয়ার কারণে অন্য পরীক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি উঠার আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও, সকলেই একমত যে মানবিকতা নিয়মের চেয়ে বড় হওয়া উচিত।
আনিসার কাঁদা মুখ শুধু তার নিজস্ব গল্প নয়, এটি হাজারো পরীক্ষার্থীর জীবন সংগ্রামের প্রতিফলন, যারা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করছে। এই ঘটনার আলোকে প্রশ্ন ওঠে—আইন কি সবসময় জীবনের চেয়ে বড়?