ঘরের মাঠে কয়েকদিন আগেও পিছিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক জয় উপহার দিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার রাতেও তেমন এক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল দলটি। তাই সমর্থকরা আশা করেছিলেন এবারও দারুণ কিছুই করবে কিলিয়ান এমবাপেরা। তবে তেমনটা হতে দেয়নি বার্সেলোনা। রবের্তো লেভানডোভস্কির জাদুতে স্বাগতিকদের রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে কাতালানরা। এরফলে লা লিগার টেবিলে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে গেল হান্সি ফ্লিকের দল। এই হারে লা লিগায় রিয়ালের টানা ৪২ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রায় ছেদ পড়ল। লিগে সবশেষ তারা হেরেছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে ৩-১ গোলে।
রোববার বাংলাদেশ সময় রাতে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর জোড়া গোল করেন লেভানডোভস্কি। একটি করে গোল লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রোববার দ্বিতীয় মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে নেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়ে যান এমবাপে। তবে সেটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। ওয়ান-অন-ওয়ানে বাইরে মেরে বসেন এ তারকা। যদিও অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।
এদিকে ম্যাচের ১৩তম মিনিটে বার্সেলোনকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ নষ্ট করেন ইয়ামাল। মাঝমাঠ থেকে লেভানডোভস্কির ফ্লিকে বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, কিন্তু গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট নেন স্প্যানিশ উইঙ্গার।
২২তম মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির বাধা এড়িয়ে বাইরে মেরে সুযোগ হারান ভিনিসিউস। ৩২তম মিনিটে লুকাস ভাসকেসের থ্রু বল বক্সে ঢুকে জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতেন এমবাপে। একটু পর ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। যে কারণে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ড্রয়ে।
বিরতির পর দাপট দেখায় বার্সেলোনা। এর সুফল পেতে খুব একটা দেরি হয়নি দলটি। ম্যাচের ৫৪ থেকে ৫৬, দুই মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল করে বার্সেলোনাকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন লেভানডোভস্কি। মাঝমাঠ থেকে মার্ক কাসাদোন বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে জালে পাঠান লেভানদোভস্কি। এরপর আলেহান্দ্রো বাল্দের ক্রসে বক্সে লাফিয়ে হেডে দ্বিতীয় গোলটি করেন ৩৬ বছর বয়সী তারকা।
৬৪তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন এমবাপে। ভিনিসিউসের পাসে ফরাসি তারকার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক, তার প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন পেনিয়া। পরের মিনিটে এমবাপে ফের জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল মেলেনি এবারও।
৬৫তম মিনিটে হ্যাটট্রিককের সুযোগ পেয়েও মিস করেন লেভানডোভস্কি। দুই মিনিট পর তিনি আরেকটি সুযোগ হারান ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে উড়িয়ে মেরে।
৭৫তম মিনিটে চমৎকার গোলে রিয়ালের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ আরও কঠিন করে ফেলেন ইয়ামাল। রাফিনিয়ার পাস বক্সে পেয়ে ডান পায়ের জোরাল শটে কাছের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। এদিকে ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে রিয়ালের জালে চতুর্থ গোলটি করেন রাফিনিয়া। ইনিগো মার্তিনেসের পাস ধরে সঙ্গে লেগে থাকা প্রতিপক্ষের একজনকে ছিটকে ফেলে, বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলরক্ষককে ফাঁকি দেন ২৭ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। গোটা বের্নাবেউয়ে তখন রাজ্যের হতাশা।
এ জয়ে ১১ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে বার্সেলোনা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।