দীর্ঘ আট বছর পর আবারও জেলেদের জন্য উন্মুক্ত করা হলো বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদ। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য ২০১৭ সালে জেলেদের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল প্রশাসন। তবে হাইকোর্টের নির্দেশে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) চিঠি পাঠিয়ে নাফ নদে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত তিন মাসের জন্য প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে পারবেন।
শর্তসাপেক্ষে অনুমতি:
নাফ নদে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হলেও কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—
১. জেলেরা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নাফ নদে মাছ ধরতে পারবেন, তবে তা শুধুমাত্র বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে (শাহপরীর দ্বীপ থেকে টেকনাফ জেটিঘাট পর্যন্ত)।
২. নদীতে যাওয়ার সময় বিজিবির পাঁচটি নির্ধারিত পোস্টে টোকেন বা পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং ফেরার পর বিজিবির চেকপোস্টে তল্লাশি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে হবে।
৩. কোনোভাবেই বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত লঙ্ঘন করা যাবে না।
৪. নিবন্ধিত জেলে ছাড়া অন্য কেউ মাছ ধরতে পারবে না, তাই মৎস্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তালিকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
৫. এই অনুমতি সাময়িক এবং তিন মাস পর সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাফ নদ উন্মুক্ত হওয়ায় টেকনাফের জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিন জীবিকা হারিয়ে কষ্টে থাকা জেলেরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন। জেলে সৈয়দ আলম বলেন, “আমি ২০ বছর ধরে নাফ নদে মাছ শিকার করে আসছি, কিন্তু ২০১৭ সালে নিষেধাজ্ঞার কারণে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এবার নদী খুলে দেওয়ায় আমাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ ফিরে এসেছে।”
নাফ নদ জেলে সমাজ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আমান উল্লাহ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “নির্দেশনা মেনে জেলেরা নদীতে মাছ ধরবে এবং কেউ যেন অবৈধ কাজে লিপ্ত না হয়, সেদিকে নজর রাখা হবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু করলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক চোরাচালান ঠেকাতে নাফ নদে মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। দীর্ঘ আট বছর পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় জেলেদের জীবিকা পুনরায় সচল হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।