শিরোনাম
সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতায় সন্তুষ্ট আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টির প্রবণতা বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা শাহরাস্তিতে চলাচলের রাস্তায় কাঁটা তারের বেড়া: ১৭টি পরিবার গৃহবন্দি, মানবেতর জীবন যাপন ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির দাম বড় পরিমাণে কমলো, ১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৫২৮ টাকা নজরুল কেবল অতীত নন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচে মাটি কাটা প্রকল্পেরই অংশ: সড়ক ও রেলমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমানের ফ্লাইট থেকে ১৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার, মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা হাবিপ্রবিতে হল সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার, বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি আরও ৬০ জনের অনলাইন জুয়া দমনে নতুন আইন, কার্যকর ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কাটল আইনি জটিলতা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন

চিকিৎসকের অবহেলায় প্রাণ গেল শিশু রাইফার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৫৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০২২

রাইফা, দৈনিক সমকালের (স্টাফ রিপোর্টার) সাংবাদিক রুবেল খানের আদরের দুলালী। ছোট্ট শিশুটির গলা ব্যথা। খাবার খেতে কষ্ট হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বাবা রুবেল খান তাকে নিয়ে গেলেন চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে। একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শিশুকন্যাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন।

ভর্তির কারণ- স্যালাইনের মাধ্যমে শরীরে খাবারের ঘাটতি পূরণ। ভর্তির পর কর্তব্যরত ডাক্তার অন্য ওষুধের সঙ্গে এন্টিবায়োটিক দেন। প্রথমবার এন্টিবায়োটিক খাওয়ানোর পর রাইফার হালকা খিঁচুনি শুরু হয়। বাবা সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি ডিউটি ডাক্তারকে জানান এবং বলেন, এন্টিবায়োটিক হয়তো তার মেয়ের শরীর সহ্য করতে পারছে না।

ডিউটি ডাক্তার তখন একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে কল করার পরামর্শ দেন। কল দেয়া হয় ডা. বিধান রায় চৌধুরীকে। শুক্রবার সকালে আসার কথা থাকলেও তিনি আসলেন দুপুরে। রোগী দেখলেন, কিন্তু এন্টিবায়োটিক দেয়ার পর খিঁচুনির কথা বললেও ডাক্তার কোনো জবাব দেননি।

২২০০ টাকা ফিস নিয়ে তিনি রোগী দেখলেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই, একবার হাতটাও ধরলেন না! বাবার নানা প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে ডা. বিধান রায় চলে গেলেন। পরে মেয়ের বাবাকে নার্স জানালেন, ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন এন্টিবায়োটিক খাওয়ানোর জন্য।

সাংবাদিক বাবা তো আর ডাক্তারের চেয়ে বড় কেউ নয়। তাইতো বাবার আপত্তি সত্ত্বেও আবারও আড়াই বছরের মেয়েটাকে দেয়া হলো এন্টিবায়োটিক। পরেরবার ওষুধ খাওয়ানোর পর আর হালকা নয়, চরম খিঁচুনি দিতে লাগল ছোট্ট রাইফার একরতি শরীরটা।

এমন খিঁচুনি হতে লাগল যে, বাচ্চাটা দাঁতে দাঁত চেপে সেটা সহ্য করার চেষ্টা করল। আর তাতে একটা দাঁত ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে গেল। ছোট্ট শিশুটির মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে লাগল। বিষয়টি দ্রুত ডিউটি ডাক্তার ও নার্সকে জানানো হলে তারা এসে বাচ্চাটার মুখে গজ ঢুকিয়ে দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধের চেষ্টা করল।

তখন ডিউটি ডাক্তার ডা. বিধানের সঙ্গে কথা বললেন। ডা. বিধান রোগীকে ঘুমের ওষুধ দিতে বললেন। তখন নার্স ডিউটি ডাক্তার দেবাশীষের কাছে জানতে চাইলেন, ঘুমের ওষুধ কতটা দেবেন। ডিউটি ডাক্তার দেবাশীষ নির্দেশ দিলেন, পুরোটাই দিতে।

নার্স তখন বললেন, ও তো শিশু। ডা. দেবাশীষ বললেন, কোনো সমস্যা নেই, এই বয়সের বাচ্চাকে এর চেয়ে বেশিও দেয়া যায়।

অতঃপর, নার্স ডিউটি ডাক্তারের কথামতো ঘুমের ওষুধ দিলেন পুরোটাই। এরপর সব শেষ! ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে গেল রাইফা, সাংবাদিক রুবেল খানের আদরের কন্যা।

রাত তখন ১২টা। সাংবাদিক রুবেল খান এই বর্ণনা দিয়েছেন তার সহকর্মী ও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকদের। চিকিৎসকদের চরম অবহেলার শিকার ছোট্ট শিশুটি! এটা কী কোনো রোগে মৃত্যু, নাকি ডাক্তারের হাতে হত্যা?

আর এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বাঁচাতে এক ঘণ্টার মধ্যে গোটা চট্টগ্রামের সব হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয় বিএমএ।

এখন প্রশ্ন, একজন সাংবাদিক অন্যায় করলে অন্যরা তার দায় নেন না। একজন জজ দোষ করলে তার দায় সহকর্মীরা নেন না। একজন পুলিশ অপরাধ করলে তার দায় ডিপার্টমেন্ট নেয় না। তাহলে বিএমএ কেন কিছু ডাক্তারের অপরাধের দায় নিচ্ছে? অপরাধীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে?

আর দুই একজন ডাক্তারের ভুলে হাজার ডাক্তার আজ চুপ কেন? তারা কি একটু সহানুভূতিও জানাতে পারেন না!


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ