চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক ছাত্রী হেনস্তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা সংঘর্ষ ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। শনিবার রাতে শুরু হওয়া সহিংসতা রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরেও অব্যাহত থাকে। এসময় শিক্ষার্থী, স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেটে শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ কমপক্ষে ১২ জন আহত হন। এর আগে শনিবার রাতের ঘটনায় আহত হয় প্রায় ৬০ শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠন ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে ২নং গেটসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসার দারোয়ান হেনস্তা করে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে। একপর্যায়ে স্থানীয় গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এ হামলায় গ্রামবাসী অংশ নেয়।
রাতেই পরিস্থিতি অবনতি ঘটলে সেনা সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে রবিবার দুপুরে ফের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে স্থানীয় গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকেন। এ কারণে প্রায়শই তারা স্থানীয়দের হয়রানির শিকার হন।
শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতির কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ভাঙচুর ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।