আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ। দিবসটি উপলক্ষে ‘মায়ের ডাক’ শিরোনামে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সোমবার (৩০ আগস্ট) সকালে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আগত স্বজনেরা গুম হওয়াদের ফিরে আসার প্রতীক্ষার কথা জানান।
মিরপুর এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বাতেনের মেয়ে আনিসা ইসলাম বাবার গুম হওয়ার সেই স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, বাবা বেঁচে আছেন কিনা তাও আমরা জানি না। বাবাকে ফিরে পেতে আর কত বছর লাগবে জানি না। আদৌ ফিরে পাব কি না, সেটাও বলতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই অনুরোধ, তিনি যেন আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। ইসমাইল হোসেন ২০১৯ সালের জুনে নিখোঁজ হন।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে অংশগ্রহণ করেন নিখোঁজ তিতুমীর কলেজের ফাইন্যান্স বিভাগের ছাত্র আবদুল কাদের মাসুমের মা। মাসুম হারিয়ে যাওয়ার আট বছর পেরিয়ে গেলেও মা এখনও সন্তানের ফিরে আসার প্রতীক্ষায় রয়েছেন। মাসুমের মায়ের প্রশ্ন—তবে কি এই প্রতীক্ষার অবসান কখনোই হবে না, ছেলে কি ফিরবে না? ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে টিউশনির কথা বলে ঢাকার নাখালপাড়ার বাসা থেকে বের হন ছেলে আবদুল কাদের মাসুম। এরপর আর ফিরে আসেনি।
আনিসা কিংবা আয়েশা নন এরকম অনেকেই এসেছে স্বজনদের ফিরে আসার আকুতি নিয়ে। কারও বুকে সন্তানের ছবি, কারও বুকে বাবার ছবি, আবার কারও বুকে ভাইয়ের ছবি। সভায় নিজেদের দুঃসহ কষ্টের কথা তুলে ধরেন তারা। কারও মা, কারও সন্তান, কারও বোন ঘটনার বর্ণনা দেন। তারা প্রতিটি ঘটনাতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘একটা প্রশ্ন মনের মধ্যে আসে, গুম কারা করে। এই গুম সরকারি বাহিনী করেছে, সরকার করেছে—এটা বিশ্বাস করার বহু কারণ রয়েছে। যদি গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সরকারি বাহিনী না করে থাকে, তাহলে যারা গুম হয়েছেন, তাদের খুঁজে বের করছেন না কেন?
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশ এখন দুঃশাসনে ডুবে গেছে। আন্দোলন ছাড়া চোখের জল এই সরকারের গদি নড়াতে পারবে না। প্রতিবছরই এখানে আসলেই স্বজনদের কান্না দেখি। কান্না কোনো সমাধান নয়। আন্দোলনই এই সরকারের পতন নিশ্চিত করতে পারে। দুর্নীতিতে সারাদেশ ছেয়ে গেছে। করোনা কালীন সময়েও যারা দুর্নীতি করেছে তাদের সেভাবে বিচার করতে পারছে না। কারণ দুর্নীতির উপর ভর করেই জনগণের ভোট ছাড়া এই সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম প্রমুখ।