বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম আসরকে সামনে রেখে সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্লেয়ার্স ড্রাফট। এবারের আসরে বেশ কিছু চমক দেখিয়েছে ফ্রাঞ্জাইজিগুলো। অপেক্ষা এবার দলগুলোর জার্সি এবং লোগো উন্মোচনের। প্লেয়ার্স ড্রাফটে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ঢাকা। বিসিবির তত্ত্বাবধানে থাকা দলটি একসঙ্গে নিয়েছে মাশরাফী, তামিম আর মাহমুদউল্লাহকে। শক্তিশালী স্কোয়াড গড়েছে সাকিবের ফরচুন বরিশালও। ড্রাফট থেকে তারা ভিড়িয়েছে সোহান, শান্ত, মেহেদী রানা, তাইজুলদের।
মুস্তাফিজের কুমিল্লায় ইমরুল, লিটন, ইমন, সুমন ছাড়াও বিদেশি কোটায় নারাইন, মঈন আলী, কুশল মেন্ডিস। রূপসা পাড়ের খুলনায় মুশফিক ছাড়াও আছেন সৌম্য, শেখ মেহেদী। চট্টগ্রাম দলে ভিড়িয়েছে শরিফুল, আফিফ, শামীম, মুকিদুল মুগ্ধকে। আর ড্রাফট থেকে সিলেট নিয়েছে মোসাদ্দেক, মিঠুন ও রবি বোপারাকে।
নিরুত্তাপ প্লেয়ার্স ড্রাফটে হঠাৎ উত্তাপ। প্রথম রাউন্ডে যেখানে তামিম-মাশরাফী-সৌম্য-সোহান সেখানে চোখ তো রাখতেই হয়। কিন্তু সবাইকে অবাক করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স বেছে নিল জাতীয় দলের ওপেনার লিটন দাশকে। তামিমকে নিল রিয়াদের ঢাকা। প্রথম ডাকে বরিশাল সোহানকে, সিলেটে সৈকত, চট্টগ্রাম শরিফুল আর খুলনা নিয়েছে শেখ মেহেদীকে। অবিকৃত মাশরাফী। ম্যাশকে কেউ নেয়নি দ্বিতীর রাউন্ডেও। সেখানে সৌম্যকে পেয়েছে খুলনা। ততক্ষণে রিয়াদের অনুরোধে বিসিবির তত্ত্বাবধানে থাকা ঢাকার ড্রাফট দলে যোগ দিয়েছেন তামিম।
মাশরাফীকে এরপরই দলে ভেড়ায় ঢাকা। এরপর একে একে রাজধানীর দলটি পেল শুভাগত, নাঈম শেখ ও আরাফাত সানিকে। বিদেশি কোটায় ইসরু উদানা, কাইসের সঙ্গে আফগান রিক্রুট শাহজাদ, নাজিবুল্লাহ জাদরান। সবমিলিয়ে রাজধানীর দলটা হয়েছে আরও শক্তিশালী।
কীর্তনখোলা পাড়ের বরিশাল আগেই সাকিব-মুজিব-গেইলকে দলে ভিড়িয়ে দিয়েছিল চমক। ড্রাফট থেকে তারা পেল নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী রানা, তৌহিদ হৃদয়, নাঈম, তাইজুল, আলজারি জোসেফের মতো টি-টোয়েন্টির তারকাদের। সব মিলিয়ে আসরে বরিশালের ম্যাচে চোখ আপনাকে রাখতেই হবে।
সে তুলনায় কিছুটা ম্লান সিলেট সানরাইজার্স। তাসকিনের দলে মিথুন, নাজমুল অপু, বিজয়, মিজানুর রহমানরা বড় তারকা। বিদেশি কোটায় অ্যাঞ্জেলো পেরেরা, রবি বোপারা। আগে থেকেই চান্ডিমাল, কেসরিক উইলিয়ামস, কলিন ইনগ্রাম। সেইসঙ্গে লেগি জুবায়ের লিখনকেও দলে ভিড়িয়েছে রূপসা পাড়ের দলটি।
শক্তিশালী দল গড়ে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। তারুণ্যে যারা দিয়েছে প্রাধান্য। জাতীয় দলের শরিফুল, আফিফ, শামীমের সঙ্গে মুকিদুল মুগ্ধ, রেজাউর রাজা। মৃত্যুঞ্জয়, মেহেদী মিরাজ, সাব্বির, আকবরাও প্রস্তুত চ্যালেঞ্জটা নিতে। কেনার লুইস, বেনি হাওয়লে, চ্যাডউইক ওয়ালটন, রায়াদ এমরিট। চট্টলার দলটার বিদেশি কোটাও যথেষ্ট ইর্শ্বাজাগানিয়া।
বিপিএলের সাবেক চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা এই আসরের অন্যতম শিরোপার দাবিদার। এই দলটার দিকে তাকান। ইমরুল, লিটন, ইমন- জয়, মঈন আলী, ফ্যাফ ডু প্লেসি সুনিল নারাইন। প্রতিপক্ষের জন্য এক একটা নাম যে শঙ্কা জাগানিয়া।
রূপসা পাড়ের খুলনা দলটা অভিজ্ঞ আর তারুণ্যের মিশেলে। প্লেয়ার্স ড্রাফটে তারা নিয়েছেন ইয়াসির আর কামরুল রাব্বি। রনি-খালেদরা দেশের ঘরোয়া টুর্নামেন্টের পরীক্ষিত মুখ। সিকান্দার রাজা, সেকুগো প্রসন্নরা এর আগেও নিজেদের প্রমাণ করেছেন বিপিএলে। সব মিলিয়ে অপেক্ষাটা এক জম্পেশ লড়াইয়ের।
এদিকে, ড্রাফটের পর আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে নিজ নিজ দল নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন ফ্রাঞ্চাইজি মালিকরা। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সবাই নিজেদের মন মতো দল গঠন করতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছেন তারা। কিছু ক্রিকেটার নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও, যাদের পেয়েছেন তাদের নিয়েই সন্তোষ ঝরেছে সবার কণ্ঠে। এখন ভালো প্রস্তুতির মাধ্যমে শিরোপার লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত ৬ দল।