অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের জন্য গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা দায়িত্ব নিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উন্নয়নে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ খাত স্থানীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম।” তিনি আরও জানান, এই খাতে কিছু অর্থায়নের সমস্যা ছিল, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়। এছাড়া স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অনেক ছোট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যেমন- লোকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ব্রিজ-কালভার্ট এবং লোকাল ইনভায়রনমেন্টাল প্রজেক্ট।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, “অর্থনীতি এখন মোটামুটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং কিছুটা গতি সঞ্চার হয়েছে। প্রাইভেট সেক্টর অপেক্ষা করছে, তবে তারা সম্পূর্ণ থমকে দাঁড়ায়নি। তারা আরও সাপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে, বিশেষ করে অর্থায়ন এবং সহজ ট্যাক্স সিস্টেমের জন্য।” তিনি জানান, এলসি খোলার ব্যাপারে ইম্পোর্ট বাড়ানো হয়েছে এবং মেশিনারি আমদানি হচ্ছে, তবে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
এছাড়া, অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু হয়েছে। বড় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একযোগে কাজ করছে এবং মানিলন্ডারিং বিষয়ক টাস্কফোর্স তথ্য সংগ্রহ করছে। এসব তথ্য চিহ্নিত করতে কিছুটা সময় লাগবে, কারণ এটি একটি টেকনিক্যাল এবং ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম।
তিনি আরও জানান, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় অর্থ পাচার হয়েছে, এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই ধরনের বিষয়গুলো খুব সেনসিটিভ, তাই টাকা উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া কঠিন হতে পারে। বর্তমান তদন্তে আজিজ খান, সামিট গ্রুপ, এস আলম, বসুন্ধরা গ্রুপ ও সালমান এফ রহমানসহ আরও ১১-১২টি কোম্পানি রয়েছে।